ঢাকা ০৭:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক মাসেই দুই বার সংখ্যালঘু হামলার শিকার গোপালগঞ্জে রবি সরকারের পরিবার

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে (২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) সংখ্যালঘু নির্যাতনের ৯৪টি ঘটনার সত্যতা পেয়েছে হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশি মাইনোরিটিস (এইচআরসিবিএম)(তথ্য সূত্র: কালের কন্ঠ ই-পেপার)।

বাংলাদেশে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন সংখ্যা লঘু সম্রদায়ের মানুষেরা। গত ৫ আগস্টের পরে থেকে এখন পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান নির্মম অত্যাচার অত্যন্ত ভয়াবহ ও অবর্ণনীয়।

আর এই চলতি বৎসরের ফেব্রুয়ারী মাসেই দুই বার সংখ্যালঘু হামলার শিকার হয়েছে গোপালগঞ্জ জেলারা, জলিরপাড় ইউনিয়নের, শান্তিপুর গ্রামের রবি সরকারের পরিবার।

প্রথম হামলাটি ঘটে ২রা ফেব্রুয়ারী রবিবার মধ্যরাতে, স্বরসতী প্রতিমা ভেঙে ফেলে দুস্কৃতিরা। দ্বীতিয় হামলাটি ঘটে ২৫ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার দিনে। এঘটনায় রবি সরকারের বাড়ি ভাংচুর করা হয়। ঘটনার সময় তারা কেউ বাড়িতে ছিলেন না।

ওদিন তারা স্ব পরিবারে সকাল সকাল মাদারীপুর জেলার, কদমবাড়ি “গণেশ পাগল সেবা আশ্রমের” মন্দিরে পূজা অর্চনার জন্য বেরিয়ে পরেন। সেখানে পুজো শেষ করে দুপুরের দিকে বাড়ি ফিরে দেখতে পান বাড়িতে ভাংচুর করা হয়েছে। বাড়ির টিন ধারালো কোনো ভাড়ি অস্ত্র দিয়ে কু*পিয়ে কাটা হয়েছে। কাপড় রাখার র‍্যাকটি পড়েছিলো মেঝেতে, ড্রেসিং টেবিল ও গ্লাস ভেঙে ফেলা হয়েছে।

প্রথম দেখে ডাকাতি মনে হলেও ঘর থেকে কিছু চুরি হয়নি। দিন দুপুরে এমন ঘটনা তার মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটিয়ে দিয়েছি। রবি সরকার ও তার পরিবার এই ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তা হিনতায় ভুগছেন।

রবি সরকার ও তার স্ত্রী ইস্কন অনুসারী হওয়ায় এঘটনায় মেলেনি কোনো প্রশাসনিক সহযোগিতাও। এ ঘটনার সাথে কে বা কারা যুক্ত এখনো মেলেনি সে তথ্য।

জোরপূর্বক সংখ্যালঘুদের ভূমি কেড়ে নেওয়া, বাড়িঘড় লুটপাট, হত্যা, গুম ও নারী ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, চাঁদাবাজি, চাকুরি থেকে বিচ্যুত করা, জোরপূর্বক দেশ ছাড়তে বাধ্য করা, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করে ভয়ংকর এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে। যে কারণে দেশের সংখ্যালঘুরা নাগরিকের সব অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে বসবাস করছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

মান্দায় খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন

এক মাসেই দুই বার সংখ্যালঘু হামলার শিকার গোপালগঞ্জে রবি সরকারের পরিবার

আপডেট : ০৩:৩১:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে (২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) সংখ্যালঘু নির্যাতনের ৯৪টি ঘটনার সত্যতা পেয়েছে হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশি মাইনোরিটিস (এইচআরসিবিএম)(তথ্য সূত্র: কালের কন্ঠ ই-পেপার)।

বাংলাদেশে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন সংখ্যা লঘু সম্রদায়ের মানুষেরা। গত ৫ আগস্টের পরে থেকে এখন পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান নির্মম অত্যাচার অত্যন্ত ভয়াবহ ও অবর্ণনীয়।

আর এই চলতি বৎসরের ফেব্রুয়ারী মাসেই দুই বার সংখ্যালঘু হামলার শিকার হয়েছে গোপালগঞ্জ জেলারা, জলিরপাড় ইউনিয়নের, শান্তিপুর গ্রামের রবি সরকারের পরিবার।

প্রথম হামলাটি ঘটে ২রা ফেব্রুয়ারী রবিবার মধ্যরাতে, স্বরসতী প্রতিমা ভেঙে ফেলে দুস্কৃতিরা। দ্বীতিয় হামলাটি ঘটে ২৫ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার দিনে। এঘটনায় রবি সরকারের বাড়ি ভাংচুর করা হয়। ঘটনার সময় তারা কেউ বাড়িতে ছিলেন না।

ওদিন তারা স্ব পরিবারে সকাল সকাল মাদারীপুর জেলার, কদমবাড়ি “গণেশ পাগল সেবা আশ্রমের” মন্দিরে পূজা অর্চনার জন্য বেরিয়ে পরেন। সেখানে পুজো শেষ করে দুপুরের দিকে বাড়ি ফিরে দেখতে পান বাড়িতে ভাংচুর করা হয়েছে। বাড়ির টিন ধারালো কোনো ভাড়ি অস্ত্র দিয়ে কু*পিয়ে কাটা হয়েছে। কাপড় রাখার র‍্যাকটি পড়েছিলো মেঝেতে, ড্রেসিং টেবিল ও গ্লাস ভেঙে ফেলা হয়েছে।

প্রথম দেখে ডাকাতি মনে হলেও ঘর থেকে কিছু চুরি হয়নি। দিন দুপুরে এমন ঘটনা তার মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটিয়ে দিয়েছি। রবি সরকার ও তার পরিবার এই ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তা হিনতায় ভুগছেন।

রবি সরকার ও তার স্ত্রী ইস্কন অনুসারী হওয়ায় এঘটনায় মেলেনি কোনো প্রশাসনিক সহযোগিতাও। এ ঘটনার সাথে কে বা কারা যুক্ত এখনো মেলেনি সে তথ্য।

জোরপূর্বক সংখ্যালঘুদের ভূমি কেড়ে নেওয়া, বাড়িঘড় লুটপাট, হত্যা, গুম ও নারী ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, চাঁদাবাজি, চাকুরি থেকে বিচ্যুত করা, জোরপূর্বক দেশ ছাড়তে বাধ্য করা, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করে ভয়ংকর এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে। যে কারণে দেশের সংখ্যালঘুরা নাগরিকের সব অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে বসবাস করছে।