ঢাকা ০৪:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪, ৮ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মালেক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে কক্সবাজার খুরুশকুলের অপরাধজগৎ

এম এ সাত্তার: কক্সবাজার প্রতিনিধি

শান্ত সুনিবিড় একটি জনপদ কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের
১নং ওয়ার্ড তেতৈয়া গ্রাম। নদী ও বনঘেঁষা এ গ্রামের মানুষের প্রধান পেশা কৃষি ও প্রবাসী। শান্ত এজনপদেই সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম চলছে আব্দুল মালেক বাহিনীর। চুরি ছিনতাই,ডাকাতি, চাঁদাবাজি ,বন সম্পদ দখল, বিক্রি, পাহাড় কেটে ঘর নির্মাণ, মাটি বিক্রি, কাঠ পাচার, ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়াসহ এমন কোনো অপরাধ নেই যার সঙ্গে জড়িত নেই মালেক বাহিনী।খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান চৌধুরী বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন।

খুরুশকুল ইউপির চিহ্নিত সন্ত্রাসী মালেক বাহিনীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মারধর ও চুরি ডাকাতির অভিযোগ এনেছেন তেতৈয়া গ্রামের শতাধিক বাসিন্দা। একই অভিযোগ করেন খোদ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান ছিদ্দিকী।অভিযুক্ত আব্দুল মালেক খুরুশকুল ইউনিয়নের তেতৈয়া গ্রামের মৃত আলী হোসেনের পুত্র।

খুরুশকুল ইউপির অর্ধশতাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকায় মালেক গ্যংয়ের ভয়ে কেই মুখ খুলতে সাহস পান না। তাদের মোটা অঙ্কের চাঁদা না দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য, ঘরবাড়ি, জমিজমা ক্রয় করতে পারে না। কেউ তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে মামলা নেয় না থানা। তাই বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করেন অনেকে। কিন্তু এসব মামলাও ফাইলবন্দী হয়ে থাকে। অন্যদিকে মালেক বাহিনীর করা হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলায় জেল খেটেছে অনেকে। তাদের জোর জুলুমের ভয়ে হাট বাজারে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন বিত্তশালী মানুষ।এমকি ব্যবসা বাণিজ্য গুটিয়ে এএলাকা ছেড়ে অন্যত্র বসতি গড়েছে কয়েক ব্যবসায়ী ও প্রবাসী। এই সন্ত্রাসীদের নিয়ে সবসময় উদ্বিগ্ন থাকেন মানুষ।

তেতৈয়া গ্রামের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি জানান, তাদের এলাকার অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে আব্দুল মালেক প্রকাশ পেঠুক মালেক ।সে তার বখাটেপনা ছেলে ও অন্যান্য চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। এই সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রায় প্রত্যেকের বিরুদ্ধে স্থানীয় ইউপি পরিষদ ও থানা- কোর্টে রয়েছে অসংখ্য মামলা।

অনুসন্ধান করে জানা যায়, চিহ্নিত সন্ত্রাসী নিয়ে মালেক জিম্মি করে রেখেছেন শান্ত প্রিয় গ্রাম তেতৈয়াকে। এলাকার উঠতি বয়সী ছেলেদের নানা অপকর্মে যুক্ত হতে বাধ্য করেন মালেক ও তার ছেলে সালাউদ্দিন অভিযোগ স্থানীয়দের।

জানা গেছে, বনবিভাগ ও নিরীহ মানুষের জমি জবর দখল, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি সহ গুরুতর সব অপরাধ করে বেড়াচ্ছেন মালেক বাহিনীর সদস্যরা। নির্যাতিত মানুষ তাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেউ আইনের আশ্রয় নিলেও বিভিন্ন মামলার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়না। প্রভাব-প্রতিপত্তির জোরে সহজে পার পেয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসীরা। উল্টো মামলা করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের রোষানলে পড়তে হচ্ছে। উল্লেখ্য অপরাধের পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও হত্যার হুমকির দায়ে তাদের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানা ও আদালতে রয়েছে অসংখ্য মামলা ও অভিযোগ।

খুরুশকুল ডেইলপাড়া এলাকার কাট ব্যবসায়ী মোঃ কালু ও জিয়া উদ্দিন জানান, তেতৈয়ার এক ব্যক্তির কাছ থেকে কিছু কাঠ ক্রয় করে ডাম্পার নিয়ে কাটগুলো নিয়ে যাওয়ার সময় মালেকের ছেলে সালাউদ্দিন রাস্তার মধ্যে অবৈধ অস্ত্র উছিলে কাঠের গাড়ি থামিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দিলে তাদের গাড়ি ছেড়ে দেয়।

তেতৈয়া গ্রামের স্থানীয় অসংখ্য লোকজন জানান, মালেক বাহিনীর জুলুম নির্যাতন চুরি ডাকাতির ঘটনায় অতিষ্ট পাড়া মহল্লায় বসবাসকারি মানুষ। সম্প্রতি মাস দেড়েক আগে সাপ্তাহ ব্যবধানে স্থানীয় গ্রামবাসীর বিভিন্ন জনের ৫টি গরু চুরি হয়ে যায়।এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন গরুগুলো চুরি হওয়ার পিছনে জড়িত সন্ত্রাসী মালেক ও তার লোকজন। কেননা প্রত্যেক গরু চুরির ঘটনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে দফায় দফায় সালিশ বৈঠক হয়েছে স্থানীয় গণ্যমান্য মুরব্বিদের উপস্থিতিতে।বৈঠকের এক পর্যায়ে চুরি হয়ে যাওয়া গরুগুলো চুরি করার কথা শিকারও করেন। চুরি হওয়া সবকটি গ‌রুর মালিককে ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন গ্রুপ লিডার মালেক।এরপর মাস দু’য়েক চলে যায়।অথচ এখনো পর্যন্ত কোন ক্ষতিগ্রস্তকে গরু বা তার বিপরীতে আর্থিক ক্ষতি পূরণ তো দেয়নি। এমনকি কারো সাথে যোগাযোগ করেনি।

মালেক বাহিনী কর্তৃক জোর জুলুমের শিকার ও চুরি হওয়া গরুর মালিকরা হলো মৃত বদিউল আলমের ছেলে মোঃ সোহেলের ১টি , মৃত বযরুজ মেহেরের ছেলে গোলাম হোসেনের ১টি, মৃত বদিউর রহমানের ছেলে আবুল কাশেমের ১টি, মৃত সিকান্দার আলীর পুত্র মনছুর আলমের ১টি,সহ হোসেন মুরগি ও মৎস্য খামার এ দুধর্ষ চুরির ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত মালেক ও তার বাহিনীর লোকজন।এ বিষয়ে নিশ্চিত করেন এক সাবেক মেম্বার।

এ ব্যাপারে জানতে আব্দুল মালেকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার বলেন, মালেক বাহিনীর জোর জুলুম, চুরি ডাকাতির কাহিনী শুনতে শুনতে তাদের একপ্রকার অভ্যস্ত হয়ে গেছে। এক দুদিন পরপর তারা এক একটি ঘটনার জন্ম দেয়। প্রত্যেকটি ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে থানা কিংবা কোর্টে ভূক্তভোগীরা মামলা করেন ।এরপরেও তাদেরকে কিছুতে দমানো যাচ্ছে না। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন চিহ্নিত এসব সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য।

খুরুশকুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহজাহান ছিদ্দিকী বলেন, আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে একটি চক্র সক্রিয় বলে জেনেছি।তারা নাকি প্রতিদিন নানান অপরাধ করে বেড়ান। মালেকের পুরো পরিবারের সদস্যরা হলো সন্ত্রাসী টাইফের। আর সন্ত্রাস হলো সমাজের নিরব ঘাতক ভাইরাস।ওরা সাধারণত মানুষের ক্ষতি করতে থাকবে।এসব অপকর্মের সাথে জড়িতদের কারণেই জনপ্রতিনিধিদের বদনাম হয়। এদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি করেন তিনি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

ঠাকুরগাঁওয়ে ৫ লাখ টাকা কুড়িয়ে পেয়ে মাইকিং করে ভাইরাল হওয়া সৌরভ গ্রেফতার

মালেক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে কক্সবাজার খুরুশকুলের অপরাধজগৎ

আপডেট : ১০:৪৫:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৪

এম এ সাত্তার: কক্সবাজার প্রতিনিধি

শান্ত সুনিবিড় একটি জনপদ কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের
১নং ওয়ার্ড তেতৈয়া গ্রাম। নদী ও বনঘেঁষা এ গ্রামের মানুষের প্রধান পেশা কৃষি ও প্রবাসী। শান্ত এজনপদেই সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম চলছে আব্দুল মালেক বাহিনীর। চুরি ছিনতাই,ডাকাতি, চাঁদাবাজি ,বন সম্পদ দখল, বিক্রি, পাহাড় কেটে ঘর নির্মাণ, মাটি বিক্রি, কাঠ পাচার, ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়াসহ এমন কোনো অপরাধ নেই যার সঙ্গে জড়িত নেই মালেক বাহিনী।খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান চৌধুরী বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন।

খুরুশকুল ইউপির চিহ্নিত সন্ত্রাসী মালেক বাহিনীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মারধর ও চুরি ডাকাতির অভিযোগ এনেছেন তেতৈয়া গ্রামের শতাধিক বাসিন্দা। একই অভিযোগ করেন খোদ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান ছিদ্দিকী।অভিযুক্ত আব্দুল মালেক খুরুশকুল ইউনিয়নের তেতৈয়া গ্রামের মৃত আলী হোসেনের পুত্র।

খুরুশকুল ইউপির অর্ধশতাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকায় মালেক গ্যংয়ের ভয়ে কেই মুখ খুলতে সাহস পান না। তাদের মোটা অঙ্কের চাঁদা না দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য, ঘরবাড়ি, জমিজমা ক্রয় করতে পারে না। কেউ তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে মামলা নেয় না থানা। তাই বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করেন অনেকে। কিন্তু এসব মামলাও ফাইলবন্দী হয়ে থাকে। অন্যদিকে মালেক বাহিনীর করা হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলায় জেল খেটেছে অনেকে। তাদের জোর জুলুমের ভয়ে হাট বাজারে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন বিত্তশালী মানুষ।এমকি ব্যবসা বাণিজ্য গুটিয়ে এএলাকা ছেড়ে অন্যত্র বসতি গড়েছে কয়েক ব্যবসায়ী ও প্রবাসী। এই সন্ত্রাসীদের নিয়ে সবসময় উদ্বিগ্ন থাকেন মানুষ।

তেতৈয়া গ্রামের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি জানান, তাদের এলাকার অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে আব্দুল মালেক প্রকাশ পেঠুক মালেক ।সে তার বখাটেপনা ছেলে ও অন্যান্য চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। এই সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রায় প্রত্যেকের বিরুদ্ধে স্থানীয় ইউপি পরিষদ ও থানা- কোর্টে রয়েছে অসংখ্য মামলা।

অনুসন্ধান করে জানা যায়, চিহ্নিত সন্ত্রাসী নিয়ে মালেক জিম্মি করে রেখেছেন শান্ত প্রিয় গ্রাম তেতৈয়াকে। এলাকার উঠতি বয়সী ছেলেদের নানা অপকর্মে যুক্ত হতে বাধ্য করেন মালেক ও তার ছেলে সালাউদ্দিন অভিযোগ স্থানীয়দের।

জানা গেছে, বনবিভাগ ও নিরীহ মানুষের জমি জবর দখল, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি সহ গুরুতর সব অপরাধ করে বেড়াচ্ছেন মালেক বাহিনীর সদস্যরা। নির্যাতিত মানুষ তাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেউ আইনের আশ্রয় নিলেও বিভিন্ন মামলার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়না। প্রভাব-প্রতিপত্তির জোরে সহজে পার পেয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসীরা। উল্টো মামলা করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের রোষানলে পড়তে হচ্ছে। উল্লেখ্য অপরাধের পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও হত্যার হুমকির দায়ে তাদের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানা ও আদালতে রয়েছে অসংখ্য মামলা ও অভিযোগ।

খুরুশকুল ডেইলপাড়া এলাকার কাট ব্যবসায়ী মোঃ কালু ও জিয়া উদ্দিন জানান, তেতৈয়ার এক ব্যক্তির কাছ থেকে কিছু কাঠ ক্রয় করে ডাম্পার নিয়ে কাটগুলো নিয়ে যাওয়ার সময় মালেকের ছেলে সালাউদ্দিন রাস্তার মধ্যে অবৈধ অস্ত্র উছিলে কাঠের গাড়ি থামিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দিলে তাদের গাড়ি ছেড়ে দেয়।

তেতৈয়া গ্রামের স্থানীয় অসংখ্য লোকজন জানান, মালেক বাহিনীর জুলুম নির্যাতন চুরি ডাকাতির ঘটনায় অতিষ্ট পাড়া মহল্লায় বসবাসকারি মানুষ। সম্প্রতি মাস দেড়েক আগে সাপ্তাহ ব্যবধানে স্থানীয় গ্রামবাসীর বিভিন্ন জনের ৫টি গরু চুরি হয়ে যায়।এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন গরুগুলো চুরি হওয়ার পিছনে জড়িত সন্ত্রাসী মালেক ও তার লোকজন। কেননা প্রত্যেক গরু চুরির ঘটনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে দফায় দফায় সালিশ বৈঠক হয়েছে স্থানীয় গণ্যমান্য মুরব্বিদের উপস্থিতিতে।বৈঠকের এক পর্যায়ে চুরি হয়ে যাওয়া গরুগুলো চুরি করার কথা শিকারও করেন। চুরি হওয়া সবকটি গ‌রুর মালিককে ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন গ্রুপ লিডার মালেক।এরপর মাস দু’য়েক চলে যায়।অথচ এখনো পর্যন্ত কোন ক্ষতিগ্রস্তকে গরু বা তার বিপরীতে আর্থিক ক্ষতি পূরণ তো দেয়নি। এমনকি কারো সাথে যোগাযোগ করেনি।

মালেক বাহিনী কর্তৃক জোর জুলুমের শিকার ও চুরি হওয়া গরুর মালিকরা হলো মৃত বদিউল আলমের ছেলে মোঃ সোহেলের ১টি , মৃত বযরুজ মেহেরের ছেলে গোলাম হোসেনের ১টি, মৃত বদিউর রহমানের ছেলে আবুল কাশেমের ১টি, মৃত সিকান্দার আলীর পুত্র মনছুর আলমের ১টি,সহ হোসেন মুরগি ও মৎস্য খামার এ দুধর্ষ চুরির ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত মালেক ও তার বাহিনীর লোকজন।এ বিষয়ে নিশ্চিত করেন এক সাবেক মেম্বার।

এ ব্যাপারে জানতে আব্দুল মালেকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার বলেন, মালেক বাহিনীর জোর জুলুম, চুরি ডাকাতির কাহিনী শুনতে শুনতে তাদের একপ্রকার অভ্যস্ত হয়ে গেছে। এক দুদিন পরপর তারা এক একটি ঘটনার জন্ম দেয়। প্রত্যেকটি ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে থানা কিংবা কোর্টে ভূক্তভোগীরা মামলা করেন ।এরপরেও তাদেরকে কিছুতে দমানো যাচ্ছে না। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন চিহ্নিত এসব সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য।

খুরুশকুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহজাহান ছিদ্দিকী বলেন, আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে একটি চক্র সক্রিয় বলে জেনেছি।তারা নাকি প্রতিদিন নানান অপরাধ করে বেড়ান। মালেকের পুরো পরিবারের সদস্যরা হলো সন্ত্রাসী টাইফের। আর সন্ত্রাস হলো সমাজের নিরব ঘাতক ভাইরাস।ওরা সাধারণত মানুষের ক্ষতি করতে থাকবে।এসব অপকর্মের সাথে জড়িতদের কারণেই জনপ্রতিনিধিদের বদনাম হয়। এদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি করেন তিনি।