ঢাকা ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রভাবের পরোয়া করে না ঠাকুরগাঁওয়ের ভোটাররা

জেলা প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও:

নির্বাচন এলে ক্ষমতাবানরা নানা রকম ভাবে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে। ভোট নিয়ে নানা কথা শোনা যায়। ভোটের ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন উঠে, ভোট কারচুপি ও কারসাজি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু এবারে আসন্ন ঠাকুরগাঁও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শুধু নিজেদের ভোট দেবোনা, ভোট পাহাড়াও করবো। যদি  আমার মূল্যবান ভোট নিয়ে কারসাজি হয় তবে আমার কেন্দ্রে তা প্রতিহত করবো। কোন ক্ষমতাবান ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর প্রভাবে প্রবাহিত হওয়ার চেয়ে প্রতিবাদি হবো।

তপ্তরোদে রিক্সা চালানোর পর সাময়িক বিশ্রাম ও চা বিরতিতে এভাবেই নিজের মনোবোল শক্ত করে  ভোট প্রদানের ইচ্ছা ও উম্মাদনা থেকে ঘামে ভেজা কাপড় গায়ে এক হাতে চা ও অন্য হাতে বন রুটি নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন সদর উপজেলা এলাকার ভোটার আব্দুল বাসেত আলী মিয়া।

সদর উপজেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নের পাটিয়াডাঙ্গী বাজারে এ সময় চায়ের দোকানে অন্যান্য ভোটাররাও তার কথা শুনে ঠিক ঠিক বলে তাকে সমর্থন করছিলেন।

রুক্সা চালক বাসেত আলীর বক্তব্য আমরা আমাদের ভোটের মূল্য অনেকে বুঝিনা। বিগত নির্বাচনে কেন্দ্রে না যেতে হুমকি শুনতে হয়েছে প্রভাবশালীদের। ভোট দিয়ে কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণার সময় প্রিজাইডিং গরিমসি করেছে দাঙ্গা বেঁধেছে মানুষ মরেছে। কেউ দায় নেয়নি। আমরা এমন পরিস্থিতি আর চাইনা। যদি নিজের ভোট নিজে রক্ষা করতে না পারি তবে আমরা সবাই অপরাধী৷ তাই চিন্তা করেছি শুধু ভোট দিবোনা। ফলাফলে যেন গরিমসি না করতে পারে, জাল ভোটার কেন্দ্রে প্রবেশ না করতে পারে এর জন্য নিজের ভোট চোখ কান খোলা রেখে পাহাড়া করবো। ফলাফল বুঝে নিয়ে কেন্দ্র ছাড়বো। আমি মনে করি প্রত্যেকটা ভোটার এমন পাহাড়াদার হলে আমাদের ভোট বিফলে যাবেনা।

চায়ের দোকানে বসা বৃদ্ধ ভোটার জমসেদ আলীর প্রশ্ন  লোকমুখে শুনছি পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্য নাকি কোন এক প্রার্থীকে সমর্থন করছে। সংসদ সদস্য নিরপেক্ষতার কথা বললেও তার নাম ভাঙ্গিয়ে নির্বাচনের প্রচারণা থামেনি।   এমন হলে  নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে না কি? ভোটাররা তো ধারণা করে বসে আছে ভোট দিয়ে কি হবে, এমপি যাকেই চাইবে সেই জিতবে? সেই সাথে সুষ্ঠু ভোটের আশঙ্কাও রয়েছে তার।

এই বৃদ্ধার প্রশ্নের জবাবে যুবক ভোটার রবিনাথ বর্মণ ও আনোয়ার হোসেন বলেন, যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে আমাদের মূল্য কি নেই? যদি এমনটাই হয় তাহলে নির্বাচনের অর্থ আমরা কি বুঝি? আমরা প্রত্যেকে যদি এমন ভীতিকর ধারণা থেকে নিজেদের বের করে নিজের চিন্তা কাজে লাগিয়ে যোগ্য লোককে ভোট দেই এবং সে ভোট রক্ষা করতে ঐক্যবদ্ধ হই তবে কোন প্রভাবই আমাদের প্রবাহিত করতে পারবেনা। এই যুবকদের বক্তব্য  অতএব আমরা ভোট দেবো, ভোটের দিন ক্ষমতা বলেন আর প্রভাব তা শুধু ভোটারের। কোন এমপির নয়, কোন মন্ত্রীর নয় কোন একটি পরিবারের নয়। আমরা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নির্বাচন কমিশনের কাছে এবং প্রশাসনের কাছে একটি  পক্ষপাতহীন অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন বুঝে নিবো। যদি কোন রকম প্রহসনের আভাসও পাই তবে তা আমরা ভোটাররা রুখে দিবো।

নির্বাচনকে ঘিরে নানা জল্পনা কল্পনা শুধু চায়ের দোকানে নয় সবখানে। চায়ের দোকান থেকে নির্বাচনী আলোচনা ছড়িয়েছে কৃষকের মাঠেও।  ঠাকুরগাঁও- পঞ্চগড় মহাসড়কের দুইপাশে আবাদি জমি। আমন ধানের বীজ থেকে চারা উৎপাদনের কাজ করছেন একদল কৃষক। ভোট নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সেখানেও।

সব মিলিয়ে প্রচার প্রচারণা আর প্রার্থীদের রঙিন পোস্টার, মাইকিং ও গণসংযোগে প্রাণবন্ত ও মুখোরিত নির্বাচনী প্রান্তর। সুষ্ঠু ভোটের আশা- প্রত্যাশা ও আবদারের কোন কমতি নেই এসব ভোটারের।

 

কৃষক হাসান আলী বলেন, আমরা তো ভোট দেই। কিন্তু অনেক বছর ধরে ভোটের মজা পাইনা। ভোটের প্রতি আস্থা উঠেগেছে। আমরা আমাদের ভোটের আমানত রক্ষা করতে পারিনা। যদি আমাদের ভোট চুরি হয় এর দায় আমাদেরই। যে যাই বলুকনা কেন বাক্সের ব্যালট পাহাড়া না দিতে পারলে ভোটের মূল্য কোনদিনও থাকবেনা। কাজেই আমরা প্রহসনের নির্বাচন চাইবোনা, প্রভাবের নির্বাচন চাইবোনা৷ আমার ভোট আমি দেবো, আপনার ভোট আপনি দিবেন। কোন নেতার কথায় এবং কারো চোখ রাঙানিতে আমার ভোট প্রবাহিত হবেনা। আমি পছন্দমতোই ভোট দিবো। যদি আমার ভোট নিয়ে কোন ছলাকলা হয় তবে পালাবার সব পথ আটকে দিবো।

 

চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিযোগিতা করা অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. অরুনাংশু দত্ত টিটো, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কামরুল হাসান খোকন ও জেলা আওয়ামিলীগ সহসভাপতি  রওশনুল হক তুষার। এছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান পদে ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন করে প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী প্রতিযোগিতা করছেন।

 

প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় ভোটারদের কোন ক্ষমতাবান ব্যক্তির, গোষ্ঠীর বা পরিবারের প্রভাবে যেন প্রবাহিত না হন এবং সকল ভোটার ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোট দেন সেদিকে উৎসাহ দিচ্ছেন এবং ভোট চাইছেন।

সকল ষড়যন্ত্রের সাথে লড়াই করে নিজেদের প্রার্থীকে ভোট দিতে কেন্দ্র যাওয়ার এবং সঠিক ফলাফল বুঝে নিয়ে নিজেদের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন ভোটাররা।

জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ২২ টা ইউনিয়নের মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ লক্ষ ৮৭ হাজার ১৭৫ জন। আগামি ২১ মে ১৮৫ টা কেন্দ্রে এসব ভোটাররা তাদের ভোট প্রদান করবেন। এর মধ্যে রুহিয়া থানা ভোটকেন্দ্রগুলো এবং সদর থানার বেশ কয়েকটি ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।

 

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সোলেমান আলী বলেন, নির্বাচনে আচরণবিধি দেখার জন্য তিনজন মেজিষ্ট্রেট কাজ করছে। এছাড়াও নির্বাচনের দিন যাতে পৌরসভা সহ প্রত্যেকটি ইউনিয়নে একজন করে মেজিষ্ট্রেট থাকে সেজন্য আমরা নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে জানিয়েছে। এছাড়াও সার্বিক নিরাপত্তার জন্য বিজিবি র্যাব, আনসার পুলিশ তো থাকবেই।

নির্বাচন কোন ব্যাক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারে কোন সুযোগ আছে কিনা প্রশনের জবাবে রিটার্নি

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

ঠাকুরগাঁওয়ে উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে জেলা আওয়ামীঃ রাজনীতিতে বিভক্তি হওয়ার আশঙ্কা

প্রভাবের পরোয়া করে না ঠাকুরগাঁওয়ের ভোটাররা

আপডেট : ০৯:১১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ মে ২০২৪

জেলা প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও:

নির্বাচন এলে ক্ষমতাবানরা নানা রকম ভাবে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে। ভোট নিয়ে নানা কথা শোনা যায়। ভোটের ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন উঠে, ভোট কারচুপি ও কারসাজি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু এবারে আসন্ন ঠাকুরগাঁও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শুধু নিজেদের ভোট দেবোনা, ভোট পাহাড়াও করবো। যদি  আমার মূল্যবান ভোট নিয়ে কারসাজি হয় তবে আমার কেন্দ্রে তা প্রতিহত করবো। কোন ক্ষমতাবান ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর প্রভাবে প্রবাহিত হওয়ার চেয়ে প্রতিবাদি হবো।

তপ্তরোদে রিক্সা চালানোর পর সাময়িক বিশ্রাম ও চা বিরতিতে এভাবেই নিজের মনোবোল শক্ত করে  ভোট প্রদানের ইচ্ছা ও উম্মাদনা থেকে ঘামে ভেজা কাপড় গায়ে এক হাতে চা ও অন্য হাতে বন রুটি নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন সদর উপজেলা এলাকার ভোটার আব্দুল বাসেত আলী মিয়া।

সদর উপজেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নের পাটিয়াডাঙ্গী বাজারে এ সময় চায়ের দোকানে অন্যান্য ভোটাররাও তার কথা শুনে ঠিক ঠিক বলে তাকে সমর্থন করছিলেন।

রুক্সা চালক বাসেত আলীর বক্তব্য আমরা আমাদের ভোটের মূল্য অনেকে বুঝিনা। বিগত নির্বাচনে কেন্দ্রে না যেতে হুমকি শুনতে হয়েছে প্রভাবশালীদের। ভোট দিয়ে কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণার সময় প্রিজাইডিং গরিমসি করেছে দাঙ্গা বেঁধেছে মানুষ মরেছে। কেউ দায় নেয়নি। আমরা এমন পরিস্থিতি আর চাইনা। যদি নিজের ভোট নিজে রক্ষা করতে না পারি তবে আমরা সবাই অপরাধী৷ তাই চিন্তা করেছি শুধু ভোট দিবোনা। ফলাফলে যেন গরিমসি না করতে পারে, জাল ভোটার কেন্দ্রে প্রবেশ না করতে পারে এর জন্য নিজের ভোট চোখ কান খোলা রেখে পাহাড়া করবো। ফলাফল বুঝে নিয়ে কেন্দ্র ছাড়বো। আমি মনে করি প্রত্যেকটা ভোটার এমন পাহাড়াদার হলে আমাদের ভোট বিফলে যাবেনা।

চায়ের দোকানে বসা বৃদ্ধ ভোটার জমসেদ আলীর প্রশ্ন  লোকমুখে শুনছি পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্য নাকি কোন এক প্রার্থীকে সমর্থন করছে। সংসদ সদস্য নিরপেক্ষতার কথা বললেও তার নাম ভাঙ্গিয়ে নির্বাচনের প্রচারণা থামেনি।   এমন হলে  নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে না কি? ভোটাররা তো ধারণা করে বসে আছে ভোট দিয়ে কি হবে, এমপি যাকেই চাইবে সেই জিতবে? সেই সাথে সুষ্ঠু ভোটের আশঙ্কাও রয়েছে তার।

এই বৃদ্ধার প্রশ্নের জবাবে যুবক ভোটার রবিনাথ বর্মণ ও আনোয়ার হোসেন বলেন, যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে আমাদের মূল্য কি নেই? যদি এমনটাই হয় তাহলে নির্বাচনের অর্থ আমরা কি বুঝি? আমরা প্রত্যেকে যদি এমন ভীতিকর ধারণা থেকে নিজেদের বের করে নিজের চিন্তা কাজে লাগিয়ে যোগ্য লোককে ভোট দেই এবং সে ভোট রক্ষা করতে ঐক্যবদ্ধ হই তবে কোন প্রভাবই আমাদের প্রবাহিত করতে পারবেনা। এই যুবকদের বক্তব্য  অতএব আমরা ভোট দেবো, ভোটের দিন ক্ষমতা বলেন আর প্রভাব তা শুধু ভোটারের। কোন এমপির নয়, কোন মন্ত্রীর নয় কোন একটি পরিবারের নয়। আমরা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নির্বাচন কমিশনের কাছে এবং প্রশাসনের কাছে একটি  পক্ষপাতহীন অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন বুঝে নিবো। যদি কোন রকম প্রহসনের আভাসও পাই তবে তা আমরা ভোটাররা রুখে দিবো।

নির্বাচনকে ঘিরে নানা জল্পনা কল্পনা শুধু চায়ের দোকানে নয় সবখানে। চায়ের দোকান থেকে নির্বাচনী আলোচনা ছড়িয়েছে কৃষকের মাঠেও।  ঠাকুরগাঁও- পঞ্চগড় মহাসড়কের দুইপাশে আবাদি জমি। আমন ধানের বীজ থেকে চারা উৎপাদনের কাজ করছেন একদল কৃষক। ভোট নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সেখানেও।

সব মিলিয়ে প্রচার প্রচারণা আর প্রার্থীদের রঙিন পোস্টার, মাইকিং ও গণসংযোগে প্রাণবন্ত ও মুখোরিত নির্বাচনী প্রান্তর। সুষ্ঠু ভোটের আশা- প্রত্যাশা ও আবদারের কোন কমতি নেই এসব ভোটারের।

 

কৃষক হাসান আলী বলেন, আমরা তো ভোট দেই। কিন্তু অনেক বছর ধরে ভোটের মজা পাইনা। ভোটের প্রতি আস্থা উঠেগেছে। আমরা আমাদের ভোটের আমানত রক্ষা করতে পারিনা। যদি আমাদের ভোট চুরি হয় এর দায় আমাদেরই। যে যাই বলুকনা কেন বাক্সের ব্যালট পাহাড়া না দিতে পারলে ভোটের মূল্য কোনদিনও থাকবেনা। কাজেই আমরা প্রহসনের নির্বাচন চাইবোনা, প্রভাবের নির্বাচন চাইবোনা৷ আমার ভোট আমি দেবো, আপনার ভোট আপনি দিবেন। কোন নেতার কথায় এবং কারো চোখ রাঙানিতে আমার ভোট প্রবাহিত হবেনা। আমি পছন্দমতোই ভোট দিবো। যদি আমার ভোট নিয়ে কোন ছলাকলা হয় তবে পালাবার সব পথ আটকে দিবো।

 

চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিযোগিতা করা অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. অরুনাংশু দত্ত টিটো, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কামরুল হাসান খোকন ও জেলা আওয়ামিলীগ সহসভাপতি  রওশনুল হক তুষার। এছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান পদে ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন করে প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী প্রতিযোগিতা করছেন।

 

প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় ভোটারদের কোন ক্ষমতাবান ব্যক্তির, গোষ্ঠীর বা পরিবারের প্রভাবে যেন প্রবাহিত না হন এবং সকল ভোটার ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোট দেন সেদিকে উৎসাহ দিচ্ছেন এবং ভোট চাইছেন।

সকল ষড়যন্ত্রের সাথে লড়াই করে নিজেদের প্রার্থীকে ভোট দিতে কেন্দ্র যাওয়ার এবং সঠিক ফলাফল বুঝে নিয়ে নিজেদের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন ভোটাররা।

জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ২২ টা ইউনিয়নের মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ লক্ষ ৮৭ হাজার ১৭৫ জন। আগামি ২১ মে ১৮৫ টা কেন্দ্রে এসব ভোটাররা তাদের ভোট প্রদান করবেন। এর মধ্যে রুহিয়া থানা ভোটকেন্দ্রগুলো এবং সদর থানার বেশ কয়েকটি ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।

 

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সোলেমান আলী বলেন, নির্বাচনে আচরণবিধি দেখার জন্য তিনজন মেজিষ্ট্রেট কাজ করছে। এছাড়াও নির্বাচনের দিন যাতে পৌরসভা সহ প্রত্যেকটি ইউনিয়নে একজন করে মেজিষ্ট্রেট থাকে সেজন্য আমরা নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে জানিয়েছে। এছাড়াও সার্বিক নিরাপত্তার জন্য বিজিবি র্যাব, আনসার পুলিশ তো থাকবেই।

নির্বাচন কোন ব্যাক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারে কোন সুযোগ আছে কিনা প্রশনের জবাবে রিটার্নি