ঢাকা ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মোশারুলের মোটর সাইকেলে উঠতে এমপি’র চাপ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদ নির্বাচনে যুবলীগ নেতার কাছে সদস্য পদে পরাজিত হয়ে সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারুল ইসলাম সরকার এবার সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের জন্য প্রার্থী হয়েছেন।

ভোটের মাঠে গুঞ্জণ রয়েছে স্থানীয় এমপি’র সমর্থিত প্রার্থী তিনি। বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতারা এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে মোশারুলের পক্ষে ভোট চাইছেন। যদিও স্থানীয় এমপি কে সরাসরি কোন প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় এখনো দেখা যায়নি। তবে নির্বাচনী মাঠে তার প্রভাব রয়েছে তা বিভিন্ন প্রচারণায় আওয়ামীলীগ নেতাদের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে।

রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নেমেছেন প্রার্থীরা।

এবারের নির্বাচনে দলীয় কোন প্রতীক না থাকায় দলের কোন প্রভাব থাকবেনা। ফলে দলের নেতাকর্মীরাও নিজের সমর্থিত প্রার্থীদের জেতাতে নির্বাচনের মাঠে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে আওয়ামী লীগের এই প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়ার কারনে দলের অভ্যন্তরে নেতাকর্মীদের মধ্যে বড় ধরণের বিভেদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে ঠাকুরগাঁও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বিরুপ প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করছেন আওয়ামীলীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

রুহিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-দপ্তর সম্পাদক গণেশ চন্দ্র সেন মোশারুল ইসলামের নির্বাচনী প্রচারণায় মাইক হাতে ভোটারদের সংশয় কাটাতে জোর গলায় বক্তব্য দিয়েছেন এমপি রমেশ চন্দ্র সেনের তার সমর্থিত প্রার্থী মোশারুল ইসলামকেই চাই। সে অনুযায়ী রুহিয়া থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি পার্থ সারথি সেন নির্দেশনা দিয়েছেন যেন মোশারুলের পক্ষে নির্বাচন করি।

গত শুক্রবার ১ নং রুহিয়া ইউনিয়নের কালিতলাতে নির্বাচনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন রুহিয়া থানা আওয়ামী লীগ নেতা গণেশ চন্দ্র সেন এবং এমন বক্তব্যের কথা শিকার করেছেন তিনি।

অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার রায়কে নারগুন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশারুল ইসলামের নির্বাচনি প্রচারনাতেও তার পক্ষে ভোট চাইতে দেখা গেছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনের আমেজ ও আনন্দ উন্মুক্ত করতে দলীয় প্রতিকে নির্বাচন দেননি। স্থানীয় এমপি মন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের কোন পর্যায়ের সভাপতি-সম্পাদক যেন নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষ না নেয় এমনও নির্দেশনা রয়েছে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার।

সিরাজুল ইসলাম আওয়ামী লীগের এক অঙ্গসংগঠনের নেতা বলেন, আমরাও আমাদের পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থণ দেবো এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেনের চাপে এক প্রকার কোণঠাসা হয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার সমর্থিত প্রার্থীর নির্বাচন করতে হচ্ছে। মূলত এই নির্বাচনকে কারো সার্থের জন্য প্রবাহিত করা হচ্ছে। আমরা বুঝতে পারছিনা আমাদের এখন কি করা উচিৎ?

নাম না প্রকাশ করার শর্তে অপর এক আওয়ামী লীগের প্রবীন নেতা বলেন, সদর উপজেলায় ৪ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন আওয়ামী লীগের নেতা ও একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। যে যার সমর্থিত প্রার্থীর প্রচারণায় নামবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ক্ষমতাসীন কোন এমপি যদি বাড়িতে ডেকে নিয়ে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের দিয়ে তার মদদপুষ্ট ব্যক্তিকে জেতাতে বার্তা পাঠান তাহলে এটি নির্বাচনে ভোটারদের প্রবাহিত করা ছাড়া আর কিছু নয়। এটি মুক্ত চিন্তার উপর চরম বেত্রাঘাত। এতে করে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত করতে বাঁধাগ্রস্থ হবে ভোটাররা।

এদিকে রাজাগাঁ ইউনিয়নের প্রবীণ আওয়ামীলীগ সমর্থক আনোয়ার হোসেন বলেন, কথায় আছে নির্বাচনে এক প্রার্থীর তিন পুরুষের পিঁড়ি টানা হয়। তেমনি যদি ধরি, আওয়ামীলীগ স্বাধীনতার চেতনার কথা বলে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির কথা বলে। অথচ এই নির্বাচনে আমরা দেখছি একজন চিহ্নিত রাজাকারের ছেলের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন একঝাঁক আওয়ামীলীগ নেতা। কেউ স্বেচ্ছায় কেউ আবার চাপে পড়ে। এতে করে সাসাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। ভবিষ্যতে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে এর চরম প্রভাব পড়বে।

জেলার আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করেন, আওয়ামী লীগ নেতারা এভাবে কারো চাপে একক কোন প্রার্থীর প্রচারণায় অংশ না নিয়ে সবার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করার জন্য কাজ করাটায় উত্তম। যাতে নির্বাচন আনন্দ মুখোর হয়। কিন্তু ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাচনে এমন ভাবে আওয়ামী লীগ নেতাদের দিয়ে একক কোন প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় বক্তব্য দেয়া হচ্ছে তা অত্যন্ত হতাশা জনক এবং অন্যান্য প্রার্থীদের প্রতি আক্রমনাত্মক। কোন ক্ষমতাসীন এমপি যদি নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষে ছায়া শক্তি হয়েও এমন চাপ সৃষ্টি করে তাহলে নির্বাচনে এটি দাঙ্গার আভাস দেয়। এখনি এসব নোংরামি বন্ধ করে ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ নেতাদের সংযত হওয়া উচিৎ।

দবিরুল ইসলাম নামের এক ভোটার বলেন, উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নেতারা নোংরামি শুরু করেছে। কেননা যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে তারা সবাই আওয়ামীলীগের। কিন্তু আমরা দেখছি এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিভক্ত হয়েগেছে। এতে করে আমরা তৃণমূলের সাধারণ ভোটাররা আতঙ্কিত।

চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিযোগিতা করা অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. অরুনাংশু দত্ত টিটো, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কামরুল হাসান খোকন ও জেলা আওয়ামিলীগ সহসভাপতি রওশনুল হক তুষার।

এইসব প্রার্থীদের দাবি, যে যার সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনের প্রচারণা করুক কোন আপত্তি নেই। তবে ভোটারদের যেন কোন ভাবে দলের প্রভাব দেখানো না হয়। দলীয় প্রভাব এবং ক্ষমতাসীন কোন ব্যক্তির প্রভাব যেন দেখানো না হয় সেটাই আহ্বান থাকবে প্রার্থীর প্রচারণায় অংশগ্রহণকারী নেতাদের প্রতি। প্রভাব খাটানোর চেষ্টা হলে এতে করে ভোটারগণ বিভ্রান্ত হবেন। সুতরাং সকলে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করুন। ভোটারগণ উন্মুক্ত চিন্তা থেকে ভোট প্রদান করুক।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

ঠাকুরগাঁওয়ে উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে জেলা আওয়ামীঃ রাজনীতিতে বিভক্তি হওয়ার আশঙ্কা

মোশারুলের মোটর সাইকেলে উঠতে এমপি’র চাপ

আপডেট : ১২:৩৪:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদ নির্বাচনে যুবলীগ নেতার কাছে সদস্য পদে পরাজিত হয়ে সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারুল ইসলাম সরকার এবার সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের জন্য প্রার্থী হয়েছেন।

ভোটের মাঠে গুঞ্জণ রয়েছে স্থানীয় এমপি’র সমর্থিত প্রার্থী তিনি। বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতারা এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে মোশারুলের পক্ষে ভোট চাইছেন। যদিও স্থানীয় এমপি কে সরাসরি কোন প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় এখনো দেখা যায়নি। তবে নির্বাচনী মাঠে তার প্রভাব রয়েছে তা বিভিন্ন প্রচারণায় আওয়ামীলীগ নেতাদের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে।

রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নেমেছেন প্রার্থীরা।

এবারের নির্বাচনে দলীয় কোন প্রতীক না থাকায় দলের কোন প্রভাব থাকবেনা। ফলে দলের নেতাকর্মীরাও নিজের সমর্থিত প্রার্থীদের জেতাতে নির্বাচনের মাঠে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে আওয়ামী লীগের এই প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়ার কারনে দলের অভ্যন্তরে নেতাকর্মীদের মধ্যে বড় ধরণের বিভেদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে ঠাকুরগাঁও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বিরুপ প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করছেন আওয়ামীলীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

রুহিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-দপ্তর সম্পাদক গণেশ চন্দ্র সেন মোশারুল ইসলামের নির্বাচনী প্রচারণায় মাইক হাতে ভোটারদের সংশয় কাটাতে জোর গলায় বক্তব্য দিয়েছেন এমপি রমেশ চন্দ্র সেনের তার সমর্থিত প্রার্থী মোশারুল ইসলামকেই চাই। সে অনুযায়ী রুহিয়া থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি পার্থ সারথি সেন নির্দেশনা দিয়েছেন যেন মোশারুলের পক্ষে নির্বাচন করি।

গত শুক্রবার ১ নং রুহিয়া ইউনিয়নের কালিতলাতে নির্বাচনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন রুহিয়া থানা আওয়ামী লীগ নেতা গণেশ চন্দ্র সেন এবং এমন বক্তব্যের কথা শিকার করেছেন তিনি।

অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার রায়কে নারগুন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশারুল ইসলামের নির্বাচনি প্রচারনাতেও তার পক্ষে ভোট চাইতে দেখা গেছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনের আমেজ ও আনন্দ উন্মুক্ত করতে দলীয় প্রতিকে নির্বাচন দেননি। স্থানীয় এমপি মন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের কোন পর্যায়ের সভাপতি-সম্পাদক যেন নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষ না নেয় এমনও নির্দেশনা রয়েছে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার।

সিরাজুল ইসলাম আওয়ামী লীগের এক অঙ্গসংগঠনের নেতা বলেন, আমরাও আমাদের পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থণ দেবো এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেনের চাপে এক প্রকার কোণঠাসা হয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার সমর্থিত প্রার্থীর নির্বাচন করতে হচ্ছে। মূলত এই নির্বাচনকে কারো সার্থের জন্য প্রবাহিত করা হচ্ছে। আমরা বুঝতে পারছিনা আমাদের এখন কি করা উচিৎ?

নাম না প্রকাশ করার শর্তে অপর এক আওয়ামী লীগের প্রবীন নেতা বলেন, সদর উপজেলায় ৪ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন আওয়ামী লীগের নেতা ও একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। যে যার সমর্থিত প্রার্থীর প্রচারণায় নামবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ক্ষমতাসীন কোন এমপি যদি বাড়িতে ডেকে নিয়ে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের দিয়ে তার মদদপুষ্ট ব্যক্তিকে জেতাতে বার্তা পাঠান তাহলে এটি নির্বাচনে ভোটারদের প্রবাহিত করা ছাড়া আর কিছু নয়। এটি মুক্ত চিন্তার উপর চরম বেত্রাঘাত। এতে করে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত করতে বাঁধাগ্রস্থ হবে ভোটাররা।

এদিকে রাজাগাঁ ইউনিয়নের প্রবীণ আওয়ামীলীগ সমর্থক আনোয়ার হোসেন বলেন, কথায় আছে নির্বাচনে এক প্রার্থীর তিন পুরুষের পিঁড়ি টানা হয়। তেমনি যদি ধরি, আওয়ামীলীগ স্বাধীনতার চেতনার কথা বলে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির কথা বলে। অথচ এই নির্বাচনে আমরা দেখছি একজন চিহ্নিত রাজাকারের ছেলের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন একঝাঁক আওয়ামীলীগ নেতা। কেউ স্বেচ্ছায় কেউ আবার চাপে পড়ে। এতে করে সাসাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। ভবিষ্যতে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে এর চরম প্রভাব পড়বে।

জেলার আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করেন, আওয়ামী লীগ নেতারা এভাবে কারো চাপে একক কোন প্রার্থীর প্রচারণায় অংশ না নিয়ে সবার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করার জন্য কাজ করাটায় উত্তম। যাতে নির্বাচন আনন্দ মুখোর হয়। কিন্তু ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাচনে এমন ভাবে আওয়ামী লীগ নেতাদের দিয়ে একক কোন প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় বক্তব্য দেয়া হচ্ছে তা অত্যন্ত হতাশা জনক এবং অন্যান্য প্রার্থীদের প্রতি আক্রমনাত্মক। কোন ক্ষমতাসীন এমপি যদি নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষে ছায়া শক্তি হয়েও এমন চাপ সৃষ্টি করে তাহলে নির্বাচনে এটি দাঙ্গার আভাস দেয়। এখনি এসব নোংরামি বন্ধ করে ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ নেতাদের সংযত হওয়া উচিৎ।

দবিরুল ইসলাম নামের এক ভোটার বলেন, উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নেতারা নোংরামি শুরু করেছে। কেননা যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে তারা সবাই আওয়ামীলীগের। কিন্তু আমরা দেখছি এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিভক্ত হয়েগেছে। এতে করে আমরা তৃণমূলের সাধারণ ভোটাররা আতঙ্কিত।

চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিযোগিতা করা অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. অরুনাংশু দত্ত টিটো, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কামরুল হাসান খোকন ও জেলা আওয়ামিলীগ সহসভাপতি রওশনুল হক তুষার।

এইসব প্রার্থীদের দাবি, যে যার সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনের প্রচারণা করুক কোন আপত্তি নেই। তবে ভোটারদের যেন কোন ভাবে দলের প্রভাব দেখানো না হয়। দলীয় প্রভাব এবং ক্ষমতাসীন কোন ব্যক্তির প্রভাব যেন দেখানো না হয় সেটাই আহ্বান থাকবে প্রার্থীর প্রচারণায় অংশগ্রহণকারী নেতাদের প্রতি। প্রভাব খাটানোর চেষ্টা হলে এতে করে ভোটারগণ বিভ্রান্ত হবেন। সুতরাং সকলে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করুন। ভোটারগণ উন্মুক্ত চিন্তা থেকে ভোট প্রদান করুক।