ঢাকা ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে ফসলি জমির মাটি লুট বন্ধ হয়নি

এম এ সাত্তার: কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজার সদরস্থ পিএমখালী ইউনিয়নের মাটি লুটকারিদের তৎপরতা এখনো বন্ধ হয়নি। উক্ত ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন গুলোতেও চলে মাটির অবৈধ ব্যবসা। মাটি পরিবহন করা ডাম্প ট্রাক লোকালয়ের মধ্য দিয়ে চলাচল করছে প্রতিনিয়ত। ভারী পরিবহন চলাচল করায় গ্রামীণ রাস্তার ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। রাতের বেলা এ মাটি পরিবহন হওয়ায় ওখানকার মানুষের শান্তিও নষ্ট হচ্ছে। পিএমখালী ইউপির ৪নং ওয়ার্ড পরনিয়াপাড়া এলাকার অবৈধ ডাম্পার ব্যবসায়ী ওবাইদুল হালিমের নেতৃত্বে এ মাটি বালির অবৈধ ব্যবসা চলছে। এই অবৈধ কর্মকান্ড নিয়ে পত্রিকায় নিউজ প্রকাশিত হওয়ায় মাটি খেকো চক্র এখন আরও ক্ষুব্ধ। ফলে প্রতিবাদ জানানো লোকদের ওপর ভয়ভীতি দেখিয়ে যাচ্ছে বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জমির মালিক।

বালি মাটি পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সদর ভূমি কর্মকর্তা আরিফ উল্লাহ নিজামীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি প্রতিবেদককে আশ্বস্ত করে বলেন, বিষয়টি দেখছি।

কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে শতশত বিঘা জমির মাটি কেটে নিয়ে গেলেও অভিযুক্তদের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না । স্থানীয় প্রশাসন মাটি খেকো চক্রের সদস্যদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসলে তারা কখনো এই অবৈধ কাজে হাত বাড়াতে সাহস পেতো না। মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে কোন
ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে জেল জরিমানা করলেও মূল অভিযুক্তরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। এ ব্যাপারে স্থানীয়রা প্রশাসনের যথেষ্ট গাফিলতিকে দায়ী করছেন।

স্থানীয়রা জানান, সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের গোলার পাড়া, পাতলী মাছুয়াখালী, ছনখোলা বড় বিলে শত শত বিঘা আবাদি জমি রয়েছে। এসব জমিতে যুগপৎ ফসল উৎপাদন করে দল তারা সারা বছর জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় একটি চক্র টিলা ও ফসলি জমির মাটি কেটে নিয়ে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের ভরাট কাজ ও ইটভাটায় বিক্রি করে পকেট ভারী করছে। যে কারণে আজ জমিগুলো পরিত্যক্ত ভূমিতে পরিণত। চক্রের সদস্য ও প্রশাসনের যোগসাজশে এই নৈরাজ্য চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর বরাতে জানা গেছে, চলিত বছরে প্রায় আড়াইশ বিঘা জমির মাটি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। জমিতে তৈরি হয়েছে বড় গর্ত। বিগত ১২ ফেব্রুয়ারি ‘সংকটে কৃষি জমি, ‘অভিযানেও থামছে না মাটি খেকোদের দৌরাত্ম্য’। ‘ব্যবস্থা নিতে অনীহা স্থানীয় প্রশাসনের, “পিএমখালীতে ফসলি জমিতে মাটিখেকোর তাণ্ডব’ (দৈনিক মেহেদী)। ‘সদর রামুতে টপ সয়েল কাটছে ওরা ১৮ জন (দৈনিক কক্সবাজার)। ‘খাদ্য উৎপাদন কমার আশঙ্কা, “পিএমখালী ইউনিয়নে থামছে না মাটি খেকোদের দৌরাত্ম্য (দৈনিক মেহেদী) শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। অতপর তড়িৎ ব্যবস্থা নিতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সরাসরি (মৌখিক) অভিযোগ করলেও মাটি লুটকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি‌ সংশ্লিষ্ট দপ্তর অভিযোগ স্থানীয়দের।

শুক্রবার ও গত মঙ্গলবার পিএমখালীর ছনখোলা বড় বিল, পাতলীর বিল, গোলাপাড়া বিল ঘুরে দেখা যায়, এক্সেভেটরের সাহায্য ডাম্প ট্রাক ভরছে মাটি। সেই মাটি বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছে চেরাংঘর বাজারের পশ্চিমে জুমছড়ি এলাকার একটি স্থাপনা নির্মাণ ভরাট কাজে। সে সময় মাটি কাটার কাজ তদারকি করছে মাটি বালি বিক্রির সাথে জড়িত কয়েক ব্যক্তি। আর মাটি পরিবহনকৃত রাস্তায় অবাধ বিচরণ করতে দেখা গেছে পাহাড় খেকো ওবায়দুল হালিম নামক ব্যক্তিকে।

শুক্রবার মাটি কাটার কাজ তদারকি করছিলেন স্থানীয় এক মধ্যস্থতাকারী। তিনি দাবি করেন, ‘কৃষকদের ন্যায্য মূল্য দিয়েই মাটি কাটা হচ্ছে। আপনারা (সাংবাদিকেরা) পত্রিকায় লেখালেখি করলে কী মাটি কাটা বন্ধ রাখব? ’অনুসন্ধানে জানা যায়, কক্সবাজার শহরের অদূরে পিএমখালী ইউনিয়নের দূরত্ব প্রায় ৮-১০ কিলোমিটার। তাছাড়া নিরিবিলি হওয়াতে এই এলাকাকে বেছে নিয়েছে চক্রের সদস্যরা।

জানতে চাইলে তেচ্ছিপুল এলাকার এক ব্রিকস ফিল্ডসের ম্যানেজার নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আমরা ন্যায্য মূল্যে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে মাটি কিনে ইট তৈরি করি। কৃষকদের জমির মাটি কাটার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।’

ঘাটকুলিয়া পাড়া গ্রামের শাহনেওয়াজ, হাবিব, ছনখোলা গ্রামের জহির উদ্দিন, মোস্তাক আহমেদ, মালেক মিয়াসহ আরও কয়েক কৃষকের অভিযোগ, তাদের ফসলি জমির মাটি কাটার সঙ্গে ওবাইদুল, নুরুল হক ছাড়াও অনেকে জড়িত। তারা আরও অভিযোগ করেন, কয়েকজন কৃষককে টাকা দিয়ে এমনভাবে জমির মাটি কাটা হয়, যাতে পাশের জমি ভেঙে পড়ে। তখন জমির মালিক যেন বাধ্য হয়ে তাদের জমির মাটিও বিক্রি করতে বাধ্য হন।

পিএমখালী ইউপি সূত্রে জানা গেছে, মানুষের অভিযোগ পেয়ে পরিষদের পক্ষ থেকে ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়ার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান। এরপরও জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানায় একটি সূত্র।

এ বিষয়ে অবহিত করা হলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা রহমান বলেন, কৃষকদের ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নিবেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

ঠাকুরগাঁওয়ে উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে জেলা আওয়ামীঃ রাজনীতিতে বিভক্তি হওয়ার আশঙ্কা

কক্সবাজারে ফসলি জমির মাটি লুট বন্ধ হয়নি

আপডেট : ১১:১৭:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪

এম এ সাত্তার: কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজার সদরস্থ পিএমখালী ইউনিয়নের মাটি লুটকারিদের তৎপরতা এখনো বন্ধ হয়নি। উক্ত ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন গুলোতেও চলে মাটির অবৈধ ব্যবসা। মাটি পরিবহন করা ডাম্প ট্রাক লোকালয়ের মধ্য দিয়ে চলাচল করছে প্রতিনিয়ত। ভারী পরিবহন চলাচল করায় গ্রামীণ রাস্তার ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। রাতের বেলা এ মাটি পরিবহন হওয়ায় ওখানকার মানুষের শান্তিও নষ্ট হচ্ছে। পিএমখালী ইউপির ৪নং ওয়ার্ড পরনিয়াপাড়া এলাকার অবৈধ ডাম্পার ব্যবসায়ী ওবাইদুল হালিমের নেতৃত্বে এ মাটি বালির অবৈধ ব্যবসা চলছে। এই অবৈধ কর্মকান্ড নিয়ে পত্রিকায় নিউজ প্রকাশিত হওয়ায় মাটি খেকো চক্র এখন আরও ক্ষুব্ধ। ফলে প্রতিবাদ জানানো লোকদের ওপর ভয়ভীতি দেখিয়ে যাচ্ছে বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জমির মালিক।

বালি মাটি পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সদর ভূমি কর্মকর্তা আরিফ উল্লাহ নিজামীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি প্রতিবেদককে আশ্বস্ত করে বলেন, বিষয়টি দেখছি।

কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে শতশত বিঘা জমির মাটি কেটে নিয়ে গেলেও অভিযুক্তদের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না । স্থানীয় প্রশাসন মাটি খেকো চক্রের সদস্যদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসলে তারা কখনো এই অবৈধ কাজে হাত বাড়াতে সাহস পেতো না। মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে কোন
ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে জেল জরিমানা করলেও মূল অভিযুক্তরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। এ ব্যাপারে স্থানীয়রা প্রশাসনের যথেষ্ট গাফিলতিকে দায়ী করছেন।

স্থানীয়রা জানান, সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের গোলার পাড়া, পাতলী মাছুয়াখালী, ছনখোলা বড় বিলে শত শত বিঘা আবাদি জমি রয়েছে। এসব জমিতে যুগপৎ ফসল উৎপাদন করে দল তারা সারা বছর জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় একটি চক্র টিলা ও ফসলি জমির মাটি কেটে নিয়ে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের ভরাট কাজ ও ইটভাটায় বিক্রি করে পকেট ভারী করছে। যে কারণে আজ জমিগুলো পরিত্যক্ত ভূমিতে পরিণত। চক্রের সদস্য ও প্রশাসনের যোগসাজশে এই নৈরাজ্য চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর বরাতে জানা গেছে, চলিত বছরে প্রায় আড়াইশ বিঘা জমির মাটি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। জমিতে তৈরি হয়েছে বড় গর্ত। বিগত ১২ ফেব্রুয়ারি ‘সংকটে কৃষি জমি, ‘অভিযানেও থামছে না মাটি খেকোদের দৌরাত্ম্য’। ‘ব্যবস্থা নিতে অনীহা স্থানীয় প্রশাসনের, “পিএমখালীতে ফসলি জমিতে মাটিখেকোর তাণ্ডব’ (দৈনিক মেহেদী)। ‘সদর রামুতে টপ সয়েল কাটছে ওরা ১৮ জন (দৈনিক কক্সবাজার)। ‘খাদ্য উৎপাদন কমার আশঙ্কা, “পিএমখালী ইউনিয়নে থামছে না মাটি খেকোদের দৌরাত্ম্য (দৈনিক মেহেদী) শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। অতপর তড়িৎ ব্যবস্থা নিতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সরাসরি (মৌখিক) অভিযোগ করলেও মাটি লুটকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি‌ সংশ্লিষ্ট দপ্তর অভিযোগ স্থানীয়দের।

শুক্রবার ও গত মঙ্গলবার পিএমখালীর ছনখোলা বড় বিল, পাতলীর বিল, গোলাপাড়া বিল ঘুরে দেখা যায়, এক্সেভেটরের সাহায্য ডাম্প ট্রাক ভরছে মাটি। সেই মাটি বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছে চেরাংঘর বাজারের পশ্চিমে জুমছড়ি এলাকার একটি স্থাপনা নির্মাণ ভরাট কাজে। সে সময় মাটি কাটার কাজ তদারকি করছে মাটি বালি বিক্রির সাথে জড়িত কয়েক ব্যক্তি। আর মাটি পরিবহনকৃত রাস্তায় অবাধ বিচরণ করতে দেখা গেছে পাহাড় খেকো ওবায়দুল হালিম নামক ব্যক্তিকে।

শুক্রবার মাটি কাটার কাজ তদারকি করছিলেন স্থানীয় এক মধ্যস্থতাকারী। তিনি দাবি করেন, ‘কৃষকদের ন্যায্য মূল্য দিয়েই মাটি কাটা হচ্ছে। আপনারা (সাংবাদিকেরা) পত্রিকায় লেখালেখি করলে কী মাটি কাটা বন্ধ রাখব? ’অনুসন্ধানে জানা যায়, কক্সবাজার শহরের অদূরে পিএমখালী ইউনিয়নের দূরত্ব প্রায় ৮-১০ কিলোমিটার। তাছাড়া নিরিবিলি হওয়াতে এই এলাকাকে বেছে নিয়েছে চক্রের সদস্যরা।

জানতে চাইলে তেচ্ছিপুল এলাকার এক ব্রিকস ফিল্ডসের ম্যানেজার নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আমরা ন্যায্য মূল্যে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে মাটি কিনে ইট তৈরি করি। কৃষকদের জমির মাটি কাটার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।’

ঘাটকুলিয়া পাড়া গ্রামের শাহনেওয়াজ, হাবিব, ছনখোলা গ্রামের জহির উদ্দিন, মোস্তাক আহমেদ, মালেক মিয়াসহ আরও কয়েক কৃষকের অভিযোগ, তাদের ফসলি জমির মাটি কাটার সঙ্গে ওবাইদুল, নুরুল হক ছাড়াও অনেকে জড়িত। তারা আরও অভিযোগ করেন, কয়েকজন কৃষককে টাকা দিয়ে এমনভাবে জমির মাটি কাটা হয়, যাতে পাশের জমি ভেঙে পড়ে। তখন জমির মালিক যেন বাধ্য হয়ে তাদের জমির মাটিও বিক্রি করতে বাধ্য হন।

পিএমখালী ইউপি সূত্রে জানা গেছে, মানুষের অভিযোগ পেয়ে পরিষদের পক্ষ থেকে ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়ার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান। এরপরও জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানায় একটি সূত্র।

এ বিষয়ে অবহিত করা হলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা রহমান বলেন, কৃষকদের ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নিবেন।