ঢাকা ০৫:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪, ৮ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাণীশংকৈলে বাল্য বিবাহ করলেন ইউপি সদস্য

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি।।

অষ্টম শ্রেণীর পড়ুয়া শিক্ষার্থীকে বিয়ে করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন এক ইউপি সদস্য। প্রথম স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে দ্বিতীয় বারের মত বিয়ের পিঁড়িতে বসায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। ঘটনাটি ঘটিয়েছেন ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার বাচোর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) তুলা রায়।

যেখানে, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ উল্লেখ রয়েছে, স্থানীয় সরকারের মেম্বার ও প্রতিনিধি কোন ব্যক্তির লিখিত বা মৌখিক আবেদন অথবা অন্য কোন মাধ্যমে বাল্যবিবাহের সংবাদ প্রাপ্ত হইলে তিনি উক্ত বিবাহ বন্ধ করিবেন অথবা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন। এই সরকারি নিষেধাজ্ঞার পরেও একজন ইউপি সদস্য নিজেই কীভাবে বাল্য বিয়ে করতে পারেন তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদ্য বিয়ে করা জুই রাণী উপজেলার রাতোর ইউনিয়নের গবিনাথপুর গ্রামের সুঠিন চন্দ্র রায়ের মেয়ে। শিক্ষার্থী জুই রাণীর উপর নজর পড়ে বাচোর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তুলা রায়ের। এরপর ওই শিক্ষার্থীকে নানাভাবে ফুসলিয়ে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। গত সোমবার মেয়েটিকে পালিয়ে নিয়ে বিয়ে করেন তিনি। বর্তমানে আত্নগোপনে রয়েছেন ইউপি সদস্য তুলা রায়।

ইউপি সদস্য তুলা রায়ের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিগত ১৪ বছর আগে তিনি প্রথম বিয়ে করেন। তার বাসায় স্ত্রী ও দুই স্কুল পড়ুয়া সন্তান রয়েছে।

ইউপি সদস্য (মেম্বারের) দ্বিতীয় বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে। সচেতন বলছে এটি সামাজিকতার মান ক্ষুণ্য করেছে, আজ সে একজন মেম্বার হয়ে এ কাজ করেছে, তার দেখে কাল আরো কেউ করবে, এর বিহিত হওয়া দরকার।

এদিকে, একজন নির্বাচিত ইউপি সদস্য বাল্যবিয়ে করলেও প্রশাসন কোন আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

ইউপি সদস্য তুলা রায়কে একাধিক বার ফোন দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বাচোর ইউপি চেয়ারম্যান জীতেন্দ্র নাথ বর্মন বলেন, এই ঘটনাটির আমি ধিক্কার জানাই, আমরা স্থানীয় সরকারের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

রাতোর ইউপি চেয়ারম্যান শরৎচন্দ্র রায় বলেন, মেয়টি অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে, মেয়েটি তুলা রায় মেম্বারের সাথে পালিয়েছে বিষয়টি জনতে পেরে,উভয় পক্ষকে ডাকা হলে কোন সারা পাইনি, আমি রাণীশংকৈল থানার ওসি কে অবগত করেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রকিবুল হাসান বলেন, ‘অভিযোগ পেলে মেম্বারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে’।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

ঠাকুরগাঁওয়ে ৫ লাখ টাকা কুড়িয়ে পেয়ে মাইকিং করে ভাইরাল হওয়া সৌরভ গ্রেফতার

রাণীশংকৈলে বাল্য বিবাহ করলেন ইউপি সদস্য

আপডেট : ০৫:৪৩:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি।।

অষ্টম শ্রেণীর পড়ুয়া শিক্ষার্থীকে বিয়ে করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন এক ইউপি সদস্য। প্রথম স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে দ্বিতীয় বারের মত বিয়ের পিঁড়িতে বসায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। ঘটনাটি ঘটিয়েছেন ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার বাচোর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) তুলা রায়।

যেখানে, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ উল্লেখ রয়েছে, স্থানীয় সরকারের মেম্বার ও প্রতিনিধি কোন ব্যক্তির লিখিত বা মৌখিক আবেদন অথবা অন্য কোন মাধ্যমে বাল্যবিবাহের সংবাদ প্রাপ্ত হইলে তিনি উক্ত বিবাহ বন্ধ করিবেন অথবা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন। এই সরকারি নিষেধাজ্ঞার পরেও একজন ইউপি সদস্য নিজেই কীভাবে বাল্য বিয়ে করতে পারেন তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদ্য বিয়ে করা জুই রাণী উপজেলার রাতোর ইউনিয়নের গবিনাথপুর গ্রামের সুঠিন চন্দ্র রায়ের মেয়ে। শিক্ষার্থী জুই রাণীর উপর নজর পড়ে বাচোর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তুলা রায়ের। এরপর ওই শিক্ষার্থীকে নানাভাবে ফুসলিয়ে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। গত সোমবার মেয়েটিকে পালিয়ে নিয়ে বিয়ে করেন তিনি। বর্তমানে আত্নগোপনে রয়েছেন ইউপি সদস্য তুলা রায়।

ইউপি সদস্য তুলা রায়ের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিগত ১৪ বছর আগে তিনি প্রথম বিয়ে করেন। তার বাসায় স্ত্রী ও দুই স্কুল পড়ুয়া সন্তান রয়েছে।

ইউপি সদস্য (মেম্বারের) দ্বিতীয় বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে। সচেতন বলছে এটি সামাজিকতার মান ক্ষুণ্য করেছে, আজ সে একজন মেম্বার হয়ে এ কাজ করেছে, তার দেখে কাল আরো কেউ করবে, এর বিহিত হওয়া দরকার।

এদিকে, একজন নির্বাচিত ইউপি সদস্য বাল্যবিয়ে করলেও প্রশাসন কোন আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

ইউপি সদস্য তুলা রায়কে একাধিক বার ফোন দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বাচোর ইউপি চেয়ারম্যান জীতেন্দ্র নাথ বর্মন বলেন, এই ঘটনাটির আমি ধিক্কার জানাই, আমরা স্থানীয় সরকারের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

রাতোর ইউপি চেয়ারম্যান শরৎচন্দ্র রায় বলেন, মেয়টি অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে, মেয়েটি তুলা রায় মেম্বারের সাথে পালিয়েছে বিষয়টি জনতে পেরে,উভয় পক্ষকে ডাকা হলে কোন সারা পাইনি, আমি রাণীশংকৈল থানার ওসি কে অবগত করেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রকিবুল হাসান বলেন, ‘অভিযোগ পেলে মেম্বারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে’।