ঢাকা ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে ফসলি জমিতে মাটি খেকোদের তাণ্ডব

এম এ সাত্তার, কক্সবাজার

কক্সবাজারে স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলা ও নির্লিপ্ততায় মাটি খেকোদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। যাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য আইন ভঙ্গকারিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া। সেখানে প্রশাসনের কাছ থেকে মাটি খেকো চক্র পাচ্ছেন সার্বিক সহযোগিতা। কোন বাঁধা বিপত্তি ছাড়াই সদর উপজেলাস্থ বিভিন্ন এলাকার কৃষিজমির উর্বর মাটি বা টপ সয়েল কেটে নেয়ার মহোৎসব চলছে। স্থানীয় মাটি বিক্রয় সিন্ডিকেট নানান কৌশলে কৃষকদের দাম সর্বস্ব মাইনে দিয়ে কেটে নিচ্ছে তাদের জমির মাটি। যে কারণে দিনদিনই হারিয়ে যাচ্ছে জমির উর্বরতা। এতে করে মাটি কেটে নেওয়া জমি গুলো হয়ে পড়ছে পরিত্যক্ত ভূমিতে। আর প্রতিদিন অতিরিক্ত ভারী যানবাহন (ডাম্পার) চলাচলের কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে
সড়ক উপসড়ক।

এ ব্যাপারে সমাজ সেবক কেফায়েত উল্লাহ জানান, জমির মালিক, ডাম্পার ব্যবসায়ী, ইটভাটার মালিক ও মধ্যস্থতাকারীরা লাভবান হবেন এটি কিন্তু সাময়িক। এ কাজে কয়েক ব্যক্তি লাভবান হলেও ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। আর ওভারলোড/ ভারী যানবাহনের অবাধ চলাচলে নষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পদ তথা রাস্তাঘাট। অথচ সরকারি সম্পদ নষ্ট করার অধিকার কাউকে দেয়নি সরকার। জনগণের অধিকার খর্ব ও সরকারি সম্পদ নষ্টকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব নিয়ে বসে আছেন স্থানীয় প্রশাসন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বরত কর্তাদের জানালেও এ ব্যাপারে কোনো রেসপনসিবিলিটি দেখা যায় না। যে কারণে দিনদিন মাটি বালি পাচার কারিদের অতি উৎসাহী দেখা যায়।

কক্সবাজার সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাটিখেকো চক্রের ভয়ালকাণ্ডের নজির। ফলে নানামুখী সংকটে রয়েছে স্থানীয় লোকজন ও এখানকার পরিবেশ-প্রকৃতি। এক্সেভেটরের মাধ্যমে সূর্য ডুবার সাথে সাথেই পরদিন সকাল পর্যন্ত চলে মাটি কাটার উৎসব। ছনখোলা বড় বিলের মাদার গাছ তলা নামক স্থান থেকে ডাম্পার বহনে মাটি নিয়ে যেতে সদ্য নির্মিত/পিচ ঢালাইয়ে সংস্কার করা রাস্তা কেটে বিকল্প রাস্তা তৈরি করেছে। সন্ধ্যার পরপরই উক্ত স্থান থেকে এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটছে আর তা প্রতিদিন প্রায় ৮-১০টি ডাম্পারে করে নিয়ে যায়। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত এ দৃশ্য দেখা দেখা মেলে। আর সাপ্তাহ দু’য়েক ব্যবধানে সংস্কার করা কোটি কোটি টাকার পিচঢালাইকৃত রাস্তাটি ডাম্পারের চাকাই পিষ্ট হয়ে যাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ার মতো।

এ ব্যাপারে স্থানীয় লোকজন জানান, মাটি খেকো চক্রের সদস্যরা অবাধে বিনা বাধায় ফসলি জমির মাটি ডাম্পার বহনে ইটভাটায় বিক্রি করছে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের লোকজন যখন অফিসের টাইম শেষে করে বাসায় অবস্থান করেন এ সময়েই তারা এস্কেভেটর দিয়ে মাটি খুঁড়ে নেয়ার কাজ শুরু করেন। মাটিবোঝাই ডাম্পারের চাকার চাপে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সড়কগুলো। সড়ক নষ্ট হওয়ার কারণে বাড়ছে ধুলো-বালি আর মানুষের শ্বাসকষ্টজনিত রোগের সমস্যা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জমির মালিক জানান, স্বেচ্ছায় রাজি না হলে জোর করে তাদের জমির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে করে অন্যান্য জমির পাড় ভেঙে পড়ছে। কিছুতেই ধরে রাখা যাচ্ছে সেচকৃত জমির পানি। একজন অন্যজনের দেখাদেখিতে দুই বা তিন ফসলি জমির টপ সয়েল বিক্রি করছে। এছাড়াও ছড়া-খালের চরের মাটি বালি কেটে নিয়ে যাচ্ছে চক্রটি। এ অবস্থায় জমিগুলো পরিত্যক্ত হওয়ার পাশাপাশি ফসল উৎপাদন ব্যাপকহারে কমে যাওয়ার শঙ্কার কথা জানায় সে।

কৃষি বিভাগ মারফতে জানা গেছে, সদর উপজেলার ফসলি জমিগুলো শস্যভান্ডারের আওতাভুক্ত। এ অঞ্চলের অধিকাংশ জমিই উর্বর পলিমাটি সমৃদ্ধ। এসব জমিতে বছরে দুটি মৌসুমে ধান, সরিষা ও শীতকালীন সময়ে আশানুরূপ সবজি উৎপাদন হয়ে থাকে। সম্প্রতি জমির মালিকদের মধ্যে সম্প্রতি জমির মাটি বিক্রির হার আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পায়। এতে করে জেলাতে জমিতে অনুর্বরতা সৃষ্টি হয়ে ফসল উৎপাদনে ঘাটতির শঙ্কা দেখা দেয়। এপর্যন্ত যা হওয়ার হয়ে গেছে, অন্তত এসময় হতে সতর্কতা অবলম্বন না করলে অদূর ভবিষ্যতে এর প্রভাব সবাইকে ভোগ করতে হবে। আর দেশ হয়ে পড়বে আমদানি নির্ভর। এসব খাদ্য পণ্যের ক্রয় ক্ষমতা সাধারণ মানুষের থাকবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দস্যুপনার সাথে জড়িত ব্যক্তি ও স্থানীয় কিছু জনপ্রতিনিধির সেল্টারে মাটি ব্যবসায়ীরা প্রতিবছর ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত মাটির ব্যবসা করে। তারা জমির এক থেকে দেড় ফুট মাটি কেটে নিয়ে চড়া দামে ইটভাটাসহ জলাশয় ভরাট কাজে বিক্রি করে। এছাড়া বাড়ি তৈরিতে মাটি ভরাটের প্রয়োজন হলেও অনেকে এসব মাটি ব্যবসায়ীর দ্বারস্থ হন। অল্প সময়েই মাটি ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকা রোজগার করে। আইন অমান্য করে এসব কর্মকাণ্ড চলছেই এলাকা ভিত্তিক।

কক্সবাজার আদালতের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট মীর মোশাররফ হোসেন বলেন, টপ সয়েল জমির প্রাণ। জমির ওপরের আট থেকে দশ ইঞ্চি হলো টপ সয়েল। ওই অংশেই থাকে মূল জৈবশক্তি। কৃষকরা জমির টপ সয়েল বিক্রি করে পায়ে কুড়াল মারছেন। মাটি বিক্রির সঙ্গে তারা জমির উর্বরা শক্তি বিক্রি করে দিচ্ছেন। এ ক্ষতি ১০ বছরেও পূরণ হবে না। যেভাবে মাটি বিক্রি হচ্ছে তাতে করে ফসল উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাবে।

এ ব্যাপারে অবহিত করে বক্তব্য জানতে সদর ইউএনও, এসিল্যান্ড, পরিচালক (পরিবেশ ) কে সরাসরি অভিযোগ করলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না। বিকল্প হিসেবে সংশ্লিষ্ঠদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে ফোন রিসিভ করেন না। আবার কেউ ফোন রিসিভ করে কথা বললেও তথ্য জেনে নিয়ে নিরব থাকেন। এ বিষয়ে সদর থানার ওসি রাকিবুজ্জামানের সহযোগিতা চাইলে তিনি পুলিশ পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও আদৌ ব্যবস্থা নেয়নি সে। সদর এডিশনাল এসপির সাথে কথা বললে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কোন ক্ষমতাই নেই বলে জানান। আর এসব বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব জেলা প্রশাসকের। তবে প্রশাসন চাইলে যেকোন মুহূর্তে জনবল দিয়ে তাদের সহযোগিতা করবেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

ঠাকুরগাঁওয়ে ভোটের মাঠের বীরযোদ্ধা অরুণাংশু দত্ত টিটো

কক্সবাজারে ফসলি জমিতে মাটি খেকোদের তাণ্ডব

আপডেট : ০৩:০৯:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মার্চ ২০২৪

এম এ সাত্তার, কক্সবাজার

কক্সবাজারে স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলা ও নির্লিপ্ততায় মাটি খেকোদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। যাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য আইন ভঙ্গকারিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া। সেখানে প্রশাসনের কাছ থেকে মাটি খেকো চক্র পাচ্ছেন সার্বিক সহযোগিতা। কোন বাঁধা বিপত্তি ছাড়াই সদর উপজেলাস্থ বিভিন্ন এলাকার কৃষিজমির উর্বর মাটি বা টপ সয়েল কেটে নেয়ার মহোৎসব চলছে। স্থানীয় মাটি বিক্রয় সিন্ডিকেট নানান কৌশলে কৃষকদের দাম সর্বস্ব মাইনে দিয়ে কেটে নিচ্ছে তাদের জমির মাটি। যে কারণে দিনদিনই হারিয়ে যাচ্ছে জমির উর্বরতা। এতে করে মাটি কেটে নেওয়া জমি গুলো হয়ে পড়ছে পরিত্যক্ত ভূমিতে। আর প্রতিদিন অতিরিক্ত ভারী যানবাহন (ডাম্পার) চলাচলের কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে
সড়ক উপসড়ক।

এ ব্যাপারে সমাজ সেবক কেফায়েত উল্লাহ জানান, জমির মালিক, ডাম্পার ব্যবসায়ী, ইটভাটার মালিক ও মধ্যস্থতাকারীরা লাভবান হবেন এটি কিন্তু সাময়িক। এ কাজে কয়েক ব্যক্তি লাভবান হলেও ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। আর ওভারলোড/ ভারী যানবাহনের অবাধ চলাচলে নষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পদ তথা রাস্তাঘাট। অথচ সরকারি সম্পদ নষ্ট করার অধিকার কাউকে দেয়নি সরকার। জনগণের অধিকার খর্ব ও সরকারি সম্পদ নষ্টকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব নিয়ে বসে আছেন স্থানীয় প্রশাসন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বরত কর্তাদের জানালেও এ ব্যাপারে কোনো রেসপনসিবিলিটি দেখা যায় না। যে কারণে দিনদিন মাটি বালি পাচার কারিদের অতি উৎসাহী দেখা যায়।

কক্সবাজার সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাটিখেকো চক্রের ভয়ালকাণ্ডের নজির। ফলে নানামুখী সংকটে রয়েছে স্থানীয় লোকজন ও এখানকার পরিবেশ-প্রকৃতি। এক্সেভেটরের মাধ্যমে সূর্য ডুবার সাথে সাথেই পরদিন সকাল পর্যন্ত চলে মাটি কাটার উৎসব। ছনখোলা বড় বিলের মাদার গাছ তলা নামক স্থান থেকে ডাম্পার বহনে মাটি নিয়ে যেতে সদ্য নির্মিত/পিচ ঢালাইয়ে সংস্কার করা রাস্তা কেটে বিকল্প রাস্তা তৈরি করেছে। সন্ধ্যার পরপরই উক্ত স্থান থেকে এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটছে আর তা প্রতিদিন প্রায় ৮-১০টি ডাম্পারে করে নিয়ে যায়। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত এ দৃশ্য দেখা দেখা মেলে। আর সাপ্তাহ দু’য়েক ব্যবধানে সংস্কার করা কোটি কোটি টাকার পিচঢালাইকৃত রাস্তাটি ডাম্পারের চাকাই পিষ্ট হয়ে যাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ার মতো।

এ ব্যাপারে স্থানীয় লোকজন জানান, মাটি খেকো চক্রের সদস্যরা অবাধে বিনা বাধায় ফসলি জমির মাটি ডাম্পার বহনে ইটভাটায় বিক্রি করছে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের লোকজন যখন অফিসের টাইম শেষে করে বাসায় অবস্থান করেন এ সময়েই তারা এস্কেভেটর দিয়ে মাটি খুঁড়ে নেয়ার কাজ শুরু করেন। মাটিবোঝাই ডাম্পারের চাকার চাপে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সড়কগুলো। সড়ক নষ্ট হওয়ার কারণে বাড়ছে ধুলো-বালি আর মানুষের শ্বাসকষ্টজনিত রোগের সমস্যা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জমির মালিক জানান, স্বেচ্ছায় রাজি না হলে জোর করে তাদের জমির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে করে অন্যান্য জমির পাড় ভেঙে পড়ছে। কিছুতেই ধরে রাখা যাচ্ছে সেচকৃত জমির পানি। একজন অন্যজনের দেখাদেখিতে দুই বা তিন ফসলি জমির টপ সয়েল বিক্রি করছে। এছাড়াও ছড়া-খালের চরের মাটি বালি কেটে নিয়ে যাচ্ছে চক্রটি। এ অবস্থায় জমিগুলো পরিত্যক্ত হওয়ার পাশাপাশি ফসল উৎপাদন ব্যাপকহারে কমে যাওয়ার শঙ্কার কথা জানায় সে।

কৃষি বিভাগ মারফতে জানা গেছে, সদর উপজেলার ফসলি জমিগুলো শস্যভান্ডারের আওতাভুক্ত। এ অঞ্চলের অধিকাংশ জমিই উর্বর পলিমাটি সমৃদ্ধ। এসব জমিতে বছরে দুটি মৌসুমে ধান, সরিষা ও শীতকালীন সময়ে আশানুরূপ সবজি উৎপাদন হয়ে থাকে। সম্প্রতি জমির মালিকদের মধ্যে সম্প্রতি জমির মাটি বিক্রির হার আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পায়। এতে করে জেলাতে জমিতে অনুর্বরতা সৃষ্টি হয়ে ফসল উৎপাদনে ঘাটতির শঙ্কা দেখা দেয়। এপর্যন্ত যা হওয়ার হয়ে গেছে, অন্তত এসময় হতে সতর্কতা অবলম্বন না করলে অদূর ভবিষ্যতে এর প্রভাব সবাইকে ভোগ করতে হবে। আর দেশ হয়ে পড়বে আমদানি নির্ভর। এসব খাদ্য পণ্যের ক্রয় ক্ষমতা সাধারণ মানুষের থাকবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দস্যুপনার সাথে জড়িত ব্যক্তি ও স্থানীয় কিছু জনপ্রতিনিধির সেল্টারে মাটি ব্যবসায়ীরা প্রতিবছর ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত মাটির ব্যবসা করে। তারা জমির এক থেকে দেড় ফুট মাটি কেটে নিয়ে চড়া দামে ইটভাটাসহ জলাশয় ভরাট কাজে বিক্রি করে। এছাড়া বাড়ি তৈরিতে মাটি ভরাটের প্রয়োজন হলেও অনেকে এসব মাটি ব্যবসায়ীর দ্বারস্থ হন। অল্প সময়েই মাটি ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকা রোজগার করে। আইন অমান্য করে এসব কর্মকাণ্ড চলছেই এলাকা ভিত্তিক।

কক্সবাজার আদালতের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট মীর মোশাররফ হোসেন বলেন, টপ সয়েল জমির প্রাণ। জমির ওপরের আট থেকে দশ ইঞ্চি হলো টপ সয়েল। ওই অংশেই থাকে মূল জৈবশক্তি। কৃষকরা জমির টপ সয়েল বিক্রি করে পায়ে কুড়াল মারছেন। মাটি বিক্রির সঙ্গে তারা জমির উর্বরা শক্তি বিক্রি করে দিচ্ছেন। এ ক্ষতি ১০ বছরেও পূরণ হবে না। যেভাবে মাটি বিক্রি হচ্ছে তাতে করে ফসল উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাবে।

এ ব্যাপারে অবহিত করে বক্তব্য জানতে সদর ইউএনও, এসিল্যান্ড, পরিচালক (পরিবেশ ) কে সরাসরি অভিযোগ করলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না। বিকল্প হিসেবে সংশ্লিষ্ঠদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে ফোন রিসিভ করেন না। আবার কেউ ফোন রিসিভ করে কথা বললেও তথ্য জেনে নিয়ে নিরব থাকেন। এ বিষয়ে সদর থানার ওসি রাকিবুজ্জামানের সহযোগিতা চাইলে তিনি পুলিশ পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও আদৌ ব্যবস্থা নেয়নি সে। সদর এডিশনাল এসপির সাথে কথা বললে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কোন ক্ষমতাই নেই বলে জানান। আর এসব বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব জেলা প্রশাসকের। তবে প্রশাসন চাইলে যেকোন মুহূর্তে জনবল দিয়ে তাদের সহযোগিতা করবেন।