ঢাকা ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আটোয়ারী সীমান্তে চিতা বাঘের মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল।। বিষক্রিয়া নাকি পিটিয়ে হত্যা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি:

পঞ্চগড়ের ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় চিতা বাঘের মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে ধুম্রজাল তৈরি হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা অধিকতর তদন্তের জন্য ঢাকা থেকে বন্যপ্রাণি অপরাধ দমন ইউনিটের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দলের প্রধান ও বন্যপ্রাণি অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিক প্রত্যক্ষদর্শীসহ স্থানীয়দের সাথে কথা বলেছেন এবং প্রয়োজনীয় নমুনাও সংগ্রহ করেছেন। দলের অন্য দুই সদস্য হলেন, একই ইউনিটের বন্যপ্রাণি স্কাউটস সঞ্জয় বন্ধ এবং জসিম শেখ।
এই চিতা বাঘটিকে কিভাবে মেরেছে, কারা মেরেছে, কেন মেরেছে এসব বিষয় নিয়ে এলাকার মানুষের কথা বলেন দলটি। কথা বলেছেন উপজেলা প্রশাসন, বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে।
বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক অসিম মল্লিক বলেন, আমরা তদন্ত দলটি দিনব্যাপী ঘটনাস্থল পরির্দশন করে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ, প্রশাসন ও বিজিবি, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছি। চিতা বাঘটির মৃত্যুর বিষয়ে আমরা নানান তথ্য পেয়েছি। শনিবার বিকেলে আটোয়ারী উপজেলার তড়িয়া ইউনিয়নের দাড়খোর সীমান্তের নাগর নদী এলাকায় গিয়ে দেখা যায় স্থানীয় মানুষ জনের মধ্যে এখনো আতঙ্ক রয়েছে। তবে বাঘের মরদেহ উদ্ধারের পর স্থানীয়দের একেক জন একে রকম কথা বলছেন। এদের মধ্যে কেউ বলছেন, বাঘটি আগে থেকেই দূর্বল ও রোগাক্রান্ত ছিল। সীমান্তের নাগর নদীতে বাঘটিকে দেখে স্থানীয়রা লাঠিসোটা ও জাল দিয়ে বাঘটিকে পাকড়াও করে। নদী থেকে উদ্ধারের পর বাঘটিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। আবার কেউ বলছেন, গত রোববার স্থানীয় আলম ইসলামের একটি গরু হিংস্র প্রাণীর আক্রমনে মারা যায়। গরু মৃত্যুর ক্ষোভে আলমের ছোট ছেলে মৃত গরুর মধ্যে বিষ (ফুরাডন) মিশিয়ে রাখে। সেই গরুর মাংস খেয়ে বৃহষ্পতিবার বাঘটি অসুস্থ্য হয়ে নদীর ধারে অবস্থান করছিল। পরে স্থানীয়রা জাল দিয়ে বাঘটি উদ্ধার করে।
আলম ইসলামের স্ত্রী ময়না বেগম বলেন, গত রোববার আমার একটি গরু মারা যায়। গরুটিকে বাঘ নাকী শেয়াল আক্রমন করেছিল জানি না। তবে আমার ছোট ছেলে বলেছিল, ‘মা আমাদের এতবড় ক্ষতি হলো, আমি তাকেও মেরে ফেলবো। এরপর সে গরুর মধ্যে অল্প করে ফুরাডন বিষ দিয়েছে বলে শুনেছি। এখন বাঘটি বিষ খেয়ে মারা গেছে, নাকি ঠান্ডায় অসুস্থ্য বা অন্য কোন কারণে মারা গেছে আমি জানি না।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল জব্বার বলেন, বাঘ দেখতে পাওয়ায় চেচামেচি শুনে আমি কাছে যাই। দেখি বাঘটি বসে আছে এবং আমরা কাছে গেলেও বাঘটি ঠিকমত নড়াচরা করতে পারছিল না। আমরা তখন একটি জাল দিয়ে বাঘটিকে ঢেকে দেই। তখন বাঘটি নড়াচরা শুরু করলে একটি লাঠি দিয়ে ভালো করে জালে প্যাচিয়ে ধরি। তখন বাঘটি মনে হয় মারা গিয়ে নদীতে ডুবে যাচ্ছিল। পরে নদী থেকে ডাঙায় নিয়ে একটি বাশঁ দিয়ে বাঘের চার পা বেধে সামনে নিয়ে আসি। ঢাকা বন ভবনের বন্যপ্রাণি অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিক বলেন, উর্ধতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে বাঘ মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। প্রত্যক্ষদর্শী ময়নউদ্দিনসহ স্থানীয় অনেকের সাথে কথা বলেছি। এদের কেউ কেউ বলেছেন মারা যাওয়া গরুর মধ্যে বিষটোপ দেওয়ায় সেই গরুর মাংস খেয়ে বাঘটি অসুস্থ্য হয়েছে। আবার কেউ বলছেন, বাঘটিকে উদ্ধারের সময় লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। হয়তো মাথায় আঘাত লেগে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এরপর বাঘটিকে জাল দিয়ে পেচিয়ে আনা হয়েছে। আমরা এখানে এসে নিশ্চিত হয়েছিল যে, এখানে একটি চিতা বাঘ হত্যা করা হয়েছে এবং এর সাথে অনেক মানুষ জড়িত। আমরা বিশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাঘের শরীর এবং উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত জাল থেকে কিছু নমুনা সংগ্রহ করেছি। এখন বিষ টোপের কারণে নাকি মানুষের আঘাতে বাঘের মৃত্যু হয়েছে এটা আরও পরে নিশ্চিত করে বলা যাবে। আমরা এসব তথ্য পর্যালোচনা করে একটি প্রতিবেদন উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো। আমরা এ ব্যাপারে একটি সুপারিশমালাও পেশ করবো।
শুক্রবার সকালে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার দাড়খোর সীমান্ত এলাকায় নাগর নদীর পাড় থেকে চিতা বাঘটির মরদেহ উদ্ধার করে বন বিভাগের লোকজন। পরে আটোয়ারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে প্রাথমিক ময়নাতদন্ত শেষে বাঘটির মরদেহ টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু আঞ্চলিক জাদুঘরে পাঠানো হয়।।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ বাঘটির ময়না তদন্ত করে আমরা কিছুই পাইনি। কারণে আমাদের সেরকম কোন উপকরণ আমাদের কাছে নেই। মৃত বাঘটিকে সংরক্ষণের জন্য সিরাজগঞ্জে প্রাণি যাদুঘরে পাঠানো হয়েছে।
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় শুক্রবার সকালে তড়েয়া ইউনিয়নের দাড়খোড় গ্রামে একটি চিতা বাঘকে গ্রামবাসী পিটিয়ে মেরে ফেলে। এর আগে ২০১৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বোদা উপজেলার রহমতপুর গ্রামে গ্রামবাসী একটি চিতা বাঘকে পিটিয়ে হত্যা করে। #

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার নুর উস সাদিক চৌধুরী 

আটোয়ারী সীমান্তে চিতা বাঘের মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল।। বিষক্রিয়া নাকি পিটিয়ে হত্যা

আপডেট : ১২:৫৪:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

পঞ্চগড় প্রতিনিধি:

পঞ্চগড়ের ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় চিতা বাঘের মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে ধুম্রজাল তৈরি হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা অধিকতর তদন্তের জন্য ঢাকা থেকে বন্যপ্রাণি অপরাধ দমন ইউনিটের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দলের প্রধান ও বন্যপ্রাণি অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিক প্রত্যক্ষদর্শীসহ স্থানীয়দের সাথে কথা বলেছেন এবং প্রয়োজনীয় নমুনাও সংগ্রহ করেছেন। দলের অন্য দুই সদস্য হলেন, একই ইউনিটের বন্যপ্রাণি স্কাউটস সঞ্জয় বন্ধ এবং জসিম শেখ।
এই চিতা বাঘটিকে কিভাবে মেরেছে, কারা মেরেছে, কেন মেরেছে এসব বিষয় নিয়ে এলাকার মানুষের কথা বলেন দলটি। কথা বলেছেন উপজেলা প্রশাসন, বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে।
বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক অসিম মল্লিক বলেন, আমরা তদন্ত দলটি দিনব্যাপী ঘটনাস্থল পরির্দশন করে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ, প্রশাসন ও বিজিবি, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছি। চিতা বাঘটির মৃত্যুর বিষয়ে আমরা নানান তথ্য পেয়েছি। শনিবার বিকেলে আটোয়ারী উপজেলার তড়িয়া ইউনিয়নের দাড়খোর সীমান্তের নাগর নদী এলাকায় গিয়ে দেখা যায় স্থানীয় মানুষ জনের মধ্যে এখনো আতঙ্ক রয়েছে। তবে বাঘের মরদেহ উদ্ধারের পর স্থানীয়দের একেক জন একে রকম কথা বলছেন। এদের মধ্যে কেউ বলছেন, বাঘটি আগে থেকেই দূর্বল ও রোগাক্রান্ত ছিল। সীমান্তের নাগর নদীতে বাঘটিকে দেখে স্থানীয়রা লাঠিসোটা ও জাল দিয়ে বাঘটিকে পাকড়াও করে। নদী থেকে উদ্ধারের পর বাঘটিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। আবার কেউ বলছেন, গত রোববার স্থানীয় আলম ইসলামের একটি গরু হিংস্র প্রাণীর আক্রমনে মারা যায়। গরু মৃত্যুর ক্ষোভে আলমের ছোট ছেলে মৃত গরুর মধ্যে বিষ (ফুরাডন) মিশিয়ে রাখে। সেই গরুর মাংস খেয়ে বৃহষ্পতিবার বাঘটি অসুস্থ্য হয়ে নদীর ধারে অবস্থান করছিল। পরে স্থানীয়রা জাল দিয়ে বাঘটি উদ্ধার করে।
আলম ইসলামের স্ত্রী ময়না বেগম বলেন, গত রোববার আমার একটি গরু মারা যায়। গরুটিকে বাঘ নাকী শেয়াল আক্রমন করেছিল জানি না। তবে আমার ছোট ছেলে বলেছিল, ‘মা আমাদের এতবড় ক্ষতি হলো, আমি তাকেও মেরে ফেলবো। এরপর সে গরুর মধ্যে অল্প করে ফুরাডন বিষ দিয়েছে বলে শুনেছি। এখন বাঘটি বিষ খেয়ে মারা গেছে, নাকি ঠান্ডায় অসুস্থ্য বা অন্য কোন কারণে মারা গেছে আমি জানি না।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল জব্বার বলেন, বাঘ দেখতে পাওয়ায় চেচামেচি শুনে আমি কাছে যাই। দেখি বাঘটি বসে আছে এবং আমরা কাছে গেলেও বাঘটি ঠিকমত নড়াচরা করতে পারছিল না। আমরা তখন একটি জাল দিয়ে বাঘটিকে ঢেকে দেই। তখন বাঘটি নড়াচরা শুরু করলে একটি লাঠি দিয়ে ভালো করে জালে প্যাচিয়ে ধরি। তখন বাঘটি মনে হয় মারা গিয়ে নদীতে ডুবে যাচ্ছিল। পরে নদী থেকে ডাঙায় নিয়ে একটি বাশঁ দিয়ে বাঘের চার পা বেধে সামনে নিয়ে আসি। ঢাকা বন ভবনের বন্যপ্রাণি অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিক বলেন, উর্ধতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে বাঘ মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। প্রত্যক্ষদর্শী ময়নউদ্দিনসহ স্থানীয় অনেকের সাথে কথা বলেছি। এদের কেউ কেউ বলেছেন মারা যাওয়া গরুর মধ্যে বিষটোপ দেওয়ায় সেই গরুর মাংস খেয়ে বাঘটি অসুস্থ্য হয়েছে। আবার কেউ বলছেন, বাঘটিকে উদ্ধারের সময় লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। হয়তো মাথায় আঘাত লেগে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এরপর বাঘটিকে জাল দিয়ে পেচিয়ে আনা হয়েছে। আমরা এখানে এসে নিশ্চিত হয়েছিল যে, এখানে একটি চিতা বাঘ হত্যা করা হয়েছে এবং এর সাথে অনেক মানুষ জড়িত। আমরা বিশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাঘের শরীর এবং উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত জাল থেকে কিছু নমুনা সংগ্রহ করেছি। এখন বিষ টোপের কারণে নাকি মানুষের আঘাতে বাঘের মৃত্যু হয়েছে এটা আরও পরে নিশ্চিত করে বলা যাবে। আমরা এসব তথ্য পর্যালোচনা করে একটি প্রতিবেদন উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো। আমরা এ ব্যাপারে একটি সুপারিশমালাও পেশ করবো।
শুক্রবার সকালে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার দাড়খোর সীমান্ত এলাকায় নাগর নদীর পাড় থেকে চিতা বাঘটির মরদেহ উদ্ধার করে বন বিভাগের লোকজন। পরে আটোয়ারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে প্রাথমিক ময়নাতদন্ত শেষে বাঘটির মরদেহ টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু আঞ্চলিক জাদুঘরে পাঠানো হয়।।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ বাঘটির ময়না তদন্ত করে আমরা কিছুই পাইনি। কারণে আমাদের সেরকম কোন উপকরণ আমাদের কাছে নেই। মৃত বাঘটিকে সংরক্ষণের জন্য সিরাজগঞ্জে প্রাণি যাদুঘরে পাঠানো হয়েছে।
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় শুক্রবার সকালে তড়েয়া ইউনিয়নের দাড়খোড় গ্রামে একটি চিতা বাঘকে গ্রামবাসী পিটিয়ে মেরে ফেলে। এর আগে ২০১৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বোদা উপজেলার রহমতপুর গ্রামে গ্রামবাসী একটি চিতা বাঘকে পিটিয়ে হত্যা করে। #