রিদুয়ান ইসলাম, জবি:
ইউনাইটেড পিপল গ্লোবাল (ইউপিজি) একটি আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী। এটি বিশ্বকে আরো উন্নত ধাপে এগিয়ে নিতে উৎসাহ প্রদান করে এবং তা অর্জনে সাহায্য করে।
জাতিসংঘের ১৭ টি টেকসই উন্নয়ন উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) নিয়ে কাজ করার জন্য সম্ভাবনাময় তরুণদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে ইউপিজি লিডারশীপ প্রোগ্রাম -২০২৪
প্রতিবছরের মতো এবারও বিশ্বের ১২০টি দেশের প্রায় ১৩,০০০ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ১ম রাউন্ড অনুষ্টিত হয়। যেখানে শর্টলিস্টের মাধ্যমে সিলেক্ট হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৯ সপ্তাহের ট্রেনিং সেশন আয়োজিত হয়। ইউপিজি মূলত তরুণ নেতৃত্ব তৈরির মাধ্যমে প্রত্যেককে নিজ সম্প্রদায়ের সমস্যা যেমন: দারিদ্র্য, ক্ষুধা, লিঙ্গবৈষম্য এবং জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদি সমাধানের জন্য যোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। এটি টেকসই বিশ্ব নির্মাণে এসডিজি এর ১৭টি লক্ষ্য অর্জনের ভিত্তিতে আগ্রহী তরুণদের নিয়ে কাজ করছে। নয় সপ্তাহের এই প্রোগ্রাম শেষে ৫০০জন শিক্ষার্থীকে সার্টিফিকেট প্রদান এবং ৬০জন শিক্ষার্থীকে আমেরিকার হারিকেন আইল্যান্ডে ফুল ফান্ডিংয়ে এক সপ্তাহের জন্য ট্রেইনিংয়ে নেওয়া হবে।
হাতে কলমে এই কার্যক্রম যুবকদের টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কে সচেতন করে সেইসাথে তাদেরকে নিজ নিজ সমাজে বিভিন্ন কার্যক্রমে উদ্যোগ প্রদান করে।
বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে, এমন কিছু লোক আছে যারা তাদের সমাজের জন্য ভালো করতে চায় কিন্তু তারা বিদ্যমান কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে ইতিবাচক উপায়ে এগিয়ে যাওয়ার সর্বোত্তম উপায় জানেন না।
এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় তাদের সম্প্রদায়ের উন্নতিতে এবং বিশ্বের উন্নতিতে অবদান রাখার সীমিত বা কোন উপায় থাকবে না। আমাদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ বিশ্বাসের একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করে যা স্থানীয়ভাবে এবং বিশ্বব্যাপী জনসাধারণের ভালো হিসেবে কাজ করে।
এবারের ক্যান্ডিডেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী মোঃ আবু তাহের সাকিব এবং ইউপিজিলিডারশিপ প্রোগ্রাম- ২০২৪ সালের অন্যান্য প্রার্থীরা স্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিভিন্ন এসডিজি’র প্রচারে সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছেন।
প্রোগ্রাম সম্পর্কে কথা বলেন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাদিয়া আক্তার দীপা, ইউনাইটেড পিপল গ্লোবাল বিভিন্ন প্রভাবশালী ইভেন্টের আয়োজন করে যেমন "ইউক্রেনের জন্য ইউনাইটেড", যা সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়গুলিকে সমর্থন করে, "ফিলিস্তিনের জন্য শান্তি", এই অঞ্চলে শান্তির পক্ষে ওকালতি করে, "ইউনাইটেড ভয়েসেস," একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে। বৈচিত্র্যময় দৃষ্টিভঙ্গি, এবং "মা দিবস বিশেষ কর্মসূচি," বিশ্বব্যাপী মায়েদের উদযাপন এবং
ক্ষমতায়ন। এই ইভেন্টগুলি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি, অন্তর্ভুক্তি এবং ক্ষমতায়নের প্রতি UPG-এর প্রতিশ্রুতিকে আন্ডারস্কোর করে।
গতকাল সাক্ষাৎকার দেন ‘ইউপিজি সাস্টেইন্যাবিলিটি লিডারশীপ প্রোগ্রাম -২০২৪’ এ শর্টলিস্টে সিলেক্ট হওয়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী নুপুর খানম। সাক্ষাৎকার নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি-
প্রতিনিধি : আপনি কীভাবে এই প্রোগ্রাম সম্পর্কে জানতে পেরেছেন?
নুপুর খানম: আমার ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র ভাই হাবিবুর রহমান মাসরুর গত বছর এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করে আমেরিকার হারিকেন আইল্যান্ডে হওয়া ট্রেনিং সেশনে যোগদান করেছিলেন। তার মাধ্যমে এ প্রোগ্রাম সম্পর্কে জানতে পেরেছি। তার অনুপ্রেরণা, পরামর্শ ও দিকনির্দেশনায় আমি এই প্রোগ্রামে আমার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পেরেছি।
শ্যামল সিলেট: এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে আপনি কীভাবে আপনার সম্প্রদায়ে অবদান রাখছেন?
প্রতিনিধি : এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে আপনি কীভাবে আপনার সম্প্রদায়ে অবদান রাখছেন?
নুপুর খানম: আমি আমার সহপাঠী, বন্ধুবান্ধব, সিনিয়র, জুনিয়র এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে মিনি ট্রেনিং সেশন আয়োজন করে সেখানে তাদের এইসকল বৈশ্বিক সমস্যা সম্পর্কে সতর্কীকরণ, প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি সম্পর্কে অবগত করি। এছাড়া আমি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সেখানকার শিশুদের মাঝে গুণগত শিক্ষা অর্জনের প্রতি উৎসাহ প্রদান, শিক্ষার মাধ্যমে দারিদ্রতা দূরীকরণ, দূষণমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ সৃষ্টি এবং তা বজায় রাখা, লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণের মাধ্যমে সকলের সহযোগিতায় টেকসই বিশ্ব নির্মাণে কাজ করার জন্য তাদের অবগত করি।
প্রতিনিধি: ইউপিজি এর এই ধরনের প্রোগ্রামের তাৎপর্য সম্পর্কে আপনার মতামত কী?
নুপুর খানম: ইউপিজি এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে এসডিজি এর ১৭টি লক্ষ্য অর্জনে উৎসাহী তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং সকলের মাঝে একটি সৌহার্দপূর্ণ শক্তিশালী সম্পর্ক সৃষ্টির মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য প্রস্তুত করে তুলছে। তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি, উৎসাহ এবং প্রয়োজনীয় সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে প্রত্যেকের নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলী বিকাশে ভূমিকা রাখছে। তাই আমি মনে করি উজ্জীবিত তরুণদের মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে টেকসই বিশ্ব গঠনে এই প্রোগ্রামের গুরুত্ব অবর্ণনীয়।
প্রতিনিধি, এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের অনুভূতি কেমন এবং অন্যদের এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ নিয়ে কী বলতে চান?
নুপুর খানম: এটি আমার দক্ষতা, সুপ্ত গুণাবলি প্রকাশ এবং বিকাশের সুযোগ দিয়েছে। আমি আনন্দিত এই ভেবে যে এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে আমি আমার সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে অবদান রাখতে পারছি। এই ধরনের প্রোগ্রামে সকলের অংশগ্রহণ করাটা জরুরি যেন তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুন্দর ও সমস্যামুক্ত বিশ্ব উপহার দিতে পারে।
ইউপিজি মূলত একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের আন্দোলন চালিয় যাচ্ছে। তাদের সমন্বিত পদ্ধতি, যা শিক্ষা, উদ্যোগ, এবং সামাজিক সম্পৃক্ততাকে অন্তর্ভুক্ত করে, আমাদের জাতীয় উন্নয়ন সংস্থাগুলো কিভাবে কার্যকরভাবে একটি টেকসই ভবিষ্যতে অবদান রাখতে পারে-তার জন্য ইউপিজি একটি রোল মডেল।
সম্পাদক ও প্রকাশক : শাহ্ বোরহান মেহেদী, সহ-সম্পাদক : মামুন শাহ্ পিংকু
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : পুরানা পল্টন লাইন, বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০।
ইমেইল : bmbmmehedi77777@gmail.com মোবাইল : ০১৮৬৫-৬১০৭২০
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ দি ঢাকা মিরর । মেহেদী মিডিয়া ও ফাইনান্সের একটি প্রতিষ্ঠান।