০৭:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জঙ্গল সলিমপুরে হচ্ছে নতুন পুলিশ একাডেমি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জঙ্গল সলিমপুরে শুধু পুলিশ একাডেমিই নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর স্থায়ী স্থাপনাও নির্মাণ করা হবে। পুলিশের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের স্থাপনা নির্মাণের জন্যও জায়গা নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সলিমপুরের অবকাঠামো উন্নয়নসংক্রান্ত এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সড়ক নেটওয়ার্ক নির্মাণের কাজ চলছে। ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের নেতৃত্বে এই কাজ হচ্ছে। সভায় সড়ক নির্মাণসহ এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে।

তিনি জানান, জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন মৌজায় সরকারি জমি রয়েছে। পাহাড় শ্রেণির জমি কিংবা খাসজমি—এসব সরকারি সম্পদকে সুশাসনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের জন্য জঙ্গল সলিমপুরে ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এলাকার অবৈধ বসতি নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। বিভিন্ন সময়ে যারা সেখানে অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করেছেন, তাদের কীভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জঙ্গল সলিমপুরে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও পরিচালনার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরকে সুশাসনের আওতায় এনে সেখানে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা হবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, একসময় এলাকাটি অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নানা সমস্যার জন্য পরিচিত ছিল। এখন সেখান থেকে এলাকাটিকে মুক্ত করে একটি নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ জন্য জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, বিজিবি, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের জন্য নির্ধারিত জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

এদিকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত পাহাড়ি এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির দ্বিতীয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পাহাড়ি এলাকায় অপহরণ ও মুক্তিপণসহ বিভিন্ন অপরাধ বন্ধে নোয়াখালীপাড়া ও রঙ্গিখালিতে দুটি ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। ক্যাম্প দুটি ১০ ডিভিশনের অধীনে পরিচালিত হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত অপহরণের ঘটনা ঘটছে। সংশ্লিষ্টদের পরামর্শের ভিত্তিতে ওই দুই স্থানে ক্যাম্প স্থাপন করা হলে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতে পারে। এ কারণেই দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত পুলিশের মহাপরিদর্শকের সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকেরা।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের জন্য জন-আস্থা ধরে রাখাই বড় কাজ। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ জন-আস্থা অর্জন করেছে কি না এবং কতটা অর্জন করতে পেরেছে, সেটির বিচার করবে জনগণ।

তিনি বলেন, অর্জিত জন-আস্থা ধরে রাখা এবং আরও বেশি মানুষের আস্থা অর্জন করাই সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

হালুয়াঘাটে পুকুরে মিলল ৪ বছরের শিশু মাসতুরার মরদেহ, হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৪

জঙ্গল সলিমপুরে হচ্ছে নতুন পুলিশ একাডেমি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ০৫:২৬:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

জঙ্গল সলিমপুরে শুধু পুলিশ একাডেমিই নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর স্থায়ী স্থাপনাও নির্মাণ করা হবে। পুলিশের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের স্থাপনা নির্মাণের জন্যও জায়গা নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সলিমপুরের অবকাঠামো উন্নয়নসংক্রান্ত এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সড়ক নেটওয়ার্ক নির্মাণের কাজ চলছে। ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের নেতৃত্বে এই কাজ হচ্ছে। সভায় সড়ক নির্মাণসহ এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে।

তিনি জানান, জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন মৌজায় সরকারি জমি রয়েছে। পাহাড় শ্রেণির জমি কিংবা খাসজমি—এসব সরকারি সম্পদকে সুশাসনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের জন্য জঙ্গল সলিমপুরে ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এলাকার অবৈধ বসতি নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। বিভিন্ন সময়ে যারা সেখানে অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করেছেন, তাদের কীভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জঙ্গল সলিমপুরে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও পরিচালনার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরকে সুশাসনের আওতায় এনে সেখানে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা হবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, একসময় এলাকাটি অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নানা সমস্যার জন্য পরিচিত ছিল। এখন সেখান থেকে এলাকাটিকে মুক্ত করে একটি নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ জন্য জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, বিজিবি, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের জন্য নির্ধারিত জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

এদিকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত পাহাড়ি এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির দ্বিতীয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পাহাড়ি এলাকায় অপহরণ ও মুক্তিপণসহ বিভিন্ন অপরাধ বন্ধে নোয়াখালীপাড়া ও রঙ্গিখালিতে দুটি ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। ক্যাম্প দুটি ১০ ডিভিশনের অধীনে পরিচালিত হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত অপহরণের ঘটনা ঘটছে। সংশ্লিষ্টদের পরামর্শের ভিত্তিতে ওই দুই স্থানে ক্যাম্প স্থাপন করা হলে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতে পারে। এ কারণেই দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত পুলিশের মহাপরিদর্শকের সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকেরা।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের জন্য জন-আস্থা ধরে রাখাই বড় কাজ। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ জন-আস্থা অর্জন করেছে কি না এবং কতটা অর্জন করতে পেরেছে, সেটির বিচার করবে জনগণ।

তিনি বলেন, অর্জিত জন-আস্থা ধরে রাখা এবং আরও বেশি মানুষের আস্থা অর্জন করাই সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।