ঢাকাসোমবার , ৩০ আগস্ট ২০২১
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. এক্সক্লুসিভ
  5. কৃষি ও প্রকৃতি
  6. খেলা
  7. গণমাধ্যম
  8. জবস
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. টপ নিউজ
  12. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  13. তথ্যপ্রযুক্তি
  14. ধর্ম
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সবখবর

” কালজয়ী শিল্পী স্বাধীনতাযুদ্ধের কণ্ঠসৈনিক আবদুল জব্বার “

শমিত জামান : সাংবাদিক ও কলামিষ্ট
আগস্ট ৩০, ২০২১ ৬:৩০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

” কালজয়ী শিল্পী স্বাধীনতাযুদ্ধের কণ্ঠসৈনিক
আবদুল জব্বার ”

বাংলাদেশের গানের ভূবনে পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে আলো ছড়ানো, দরাজ কণ্ঠের শিল্পী আব্দুল জব্বার ২০১৭ সালের আজকের দিনে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৩৮ সালের ৭ নভেম্বর কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন আব্দুল জব্বার। মায়ের প্রেরণায় ছোটবেলা থেকেই সংগীতের সঙ্গে গড়ে ওঠে তার সখ্যতা। কুষ্টিয়ায় মোহাম্মদ ওসমানের কাছে যখন গান শিখতে শুরু করেন, জব্বার তখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। পরে মকসেদ আলী সাঁই ও লুৎফেল হক ও কলকাতায় শিবুকুমার চ্যাটার্জীর কাছেও তালিম নেন। ১৯৫৭ সালে একটি বিচিত্রানুষ্ঠানে জব্বারের কণ্ঠে নজরুলের গান ‘ঘুমিয়ে আছো বুলবুলি গো মদিনার গুলবাগে’ শুনে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসেন গীতিকার আজিজুর রহমান। পরের বছর নিয়মিত শিল্পী হিসেবে বেতারে গাইতে শুরু করেন আবদুল জব্বার। সেখানেই নজরে পড়েন সংগীত পরিচালক রবীন ঘোষের। ১৯৬২ সালে রবীন ঘোষের সংগীত পরিচালনায় নির্মাতা এহতেশামের সিনেমা ‘নতুন সুর’ দিয়ে আবদুল জব্বারের চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকের সূচনা

স্বাধীনতার আগে জহির রায়হানের ‘সঙ্গম’, ‘জীবন থেকে নেওয়া’, সুভাষ দত্তের ‘আলিঙ্গন’, নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘দীপ নেভে নাই’, ‘এতটুকু আশা’র মতো সিনেমায় গান গেয়ে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। এর মধ্যে ‘এতটুকু আশা’ সিনেমায় আবদুল জব্বারের কণ্ঠের ‘তুমি কি দেখেছো কভু’; পীচ ঢালা পথ সিনেমার ‘পীচঢালা এই পথটারে ভালোবেসেছি’; ঢেউয়ের পরে ঢেউ সিনেমায় ‘সুচরিতা যেওনাকো’ গানগুলো মানুষের মুখে মুখে ফিরেছে দীর্ঘদিন।

ষাটের দশকের শেষ দিকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় পূর্ব পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবীরা গ্রেপ্তার হওয়ার সময় থেকে প্রতিবাদী গণসংগীতে কণ্ঠ দিতে শুরু করেন আব্দুল জব্বার। ‘তুমি কি দেখেছো বন্ধু আইয়ুবের পরাজয়’, ‘শহরবাসী শোন’, ‘তোমরা যাদের মানুষ বলনা’র মতো গানগুলো গাইতে গাইতেই স্বাধীনতার আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। ১৯৬৯ সালে ‘বিমূর্ত’ নামের একটি সংগীত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন আবদুল জব্বার; গঠন করেন ‘বঙ্গবন্ধু শিল্পীগোষ্ঠী’, যার সভানেত্রী ছিলেন বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজীব।

একাত্তরের ২৫ মার্চের পর স্ত্রীকে নিয়ে আগরতলায় চলে যান আব্দুল জব্বার, সেখানে দেখা হয় আপেল মাহমুদের সঙ্গে। পরে তারা মুজীবনগরে পৌঁছে যোগ দেন স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল ও প্রেরণা যুগাতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সালাম সালাম হাজার সালাম ও জয় বাংলা বাংলার জয় সহ অসংখ্য গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। তার গানে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন।

যুুদ্ধের সময়কালে তিনি প্রখ্যাত ভারতীয় কণ্ঠশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে মুম্বাইয়ের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে জনমত তৈরিতে কাজ করেন। তৎকালীন সময়ে কলকাতাতে অবস্থিত বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প ঘুরে হারমোনিয়াম বাজিয়ে গণসঙ্গীত পরিবেশন করেছেন যা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা যুগিয়েছে। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ তহবিলে তখনকার বিভিন্ন সময় গণসঙ্গীত গেয়ে প্রাপ্ত ১২ লাখ রুপি দান করেছিলেন। ‘মানুষের মন’, ‘ঝড়ের পাখি’, ‘আলোর মিছিল’, ‘তুফান’, ‘অঙ্গার’, ‘সারেং বৌ’, ‘সখি তুমি কার’, ‘কলমিলতা’ সহ বহু সিনেমায় আবদুল জব্বারের গাওয়া গানগুলো জনপ্রিয়তা পায়। এর মধ্যে ১৯৭৮ সালের ‘সারেং বৌ’ সিনেমার ‘ও রে নীল দরিয়া’ গানটি তাকে খ্যাতির চূড়ায় নিয়ে যায়।

২০০৬ সালে বিবিসি বাংলার শ্রোতা জরিপে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ২০টি বাংলা গানের তালিকায় আসে তার গাওয়া ‘তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়’, ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’ ও ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ গান তিনটি।

আব্দুল জব্বারের স্ত্রী গীতিকার শাহীন জব্বার যার গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন আব্দুল জব্বার, সুবীর নন্দী, ফাতেমা তুজ জোহরার মত জনপ্রিয় বাংলাদেশি সঙ্গীতশিল্পীরা। তাদের সন্তান মিথুন জব্বারও একজন সঙ্গীতশিল্পী।
তিনি বঙ্গবন্ধু স্বর্ণপদক,
একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কার, জহির রায়হান চলচ্চিত্র পুরস্কার সহ অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা আবদুল জব্বারের ২০১৭ সালের ৩০ আগস্ট তিনি বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এই শিল্পীর হৃদয়ছোঁয়া বহু গানের মধ্যে একটি গান তার মৃত্যুর সময় ফিরে ফিরে আসে ভক্ত-শ্রোতাদের মনে। ‘বিদায় দাও গো বন্ধু তোমরা, এবার দাও বিদায়’ শিরোনামের ওই গানে আবদুল জব্বার গেয়েছিলেন- এই বুঝেছি সার, মিছে এ সংসার/ হেথা আপন বলে মানতে পারি, এমন কেহ নাই রে…, এমন কেহ নাই….

(References: Wikipedia, The Daily Star, Abdul Jabbar at the Internet Movie Database)
( লেখকঃ- শমিত জামান সাংবাদিক কলামিস্ট)

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।