ঢাকাশুক্রবার , ৩০ জুলাই ২০২১
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. এক্সক্লুসিভ
  5. কৃষি ও প্রকৃতি
  6. খেলা
  7. গণমাধ্যম
  8. জবস
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. টপ নিউজ
  12. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  13. তথ্যপ্রযুক্তি
  14. ধর্ম
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সবখবর

র‍্যাবের টানা অভিযান শেষে সেই হেলেনা জাহাঙ্গীর গ্রেপ্তার

শমিত জামান, কলামিস্ট ও লেখক :
জুলাই ৩০, ২০২১ ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

র‍্যাবের টানা অভিযান শেষে সেই হেলেনা জাহাঙ্গীর গ্রেপ্তার।

আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটি থেকে বহিষ্কৃত আলোচিত-সমালোচিত ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) রাত ১২টা ১৩ মিনিটের দিকে গুলশানের ৩৬ নম্বর রোডের ৫ নম্বর বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে একটি সাদা মাইক্রোবাসে তোলা হয়। পরে তাকে র‍্যাব সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু।

হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল মাদক উদ্ধার করেছে র‍্যাব। এসব মাদকের মধ্যে রয়েছে ১৭ বোতল বিদেশি মদ, বিপুল ইয়াবা, হরিণের চামড়া ও ওয়াকিটকিসহ ক্যাসিনো সরঞ্জাম। এসময় তার ব্যবহৃত দুটি অস্ত্র পাওয়া গেছে। তবে সেগুলো বৈধ কাগজ রয়েছে। এছাড়া তার ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার দেখা গেছে। র‌্যাবের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মাদক মামলা দায়ের করা হবে। এছাড়া আরও কয়েকটি মামলা হতে পারে। র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, ভবনের তিনটি ফ্লোর মিলে তিনি বসবাস করতেন। সেখানে ১৭টি রুম রয়েছে। এসব রুমেই মিলেছে অবৈধ মাদকসহ বিভিন্ন ক্যাসিনো সরঞ্জাম। তাকে মাদকের বিষয় জিজ্ঞাসাবাদ করতেই আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে র‍্যাব বাদী হয়ে মামলা করবে। সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভবনটির একজন দারোয়ান জানান, রাত ৮টার কিছু পরে র‌্যাবের ১০ থেকে ১২ জন সদস্য হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় প্রবেশ করে। রাত সোয়া ১২টার দিকে তাকে নিয়ে বের হন র‍্যাব সদস্যরা।

 

সম্প্রতি নেতা বানানোর ঘোষণা দিয়ে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামে একটি সংগঠন। এটির কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে নাম আসে হেলেনা জাহাঙ্গীরের। আর সাধারণ সম্পাদক করা হয় মাহবুব মনিরকে। তাদের নাম-সংবলিত পোস্টার ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

পোস্টারে সংগঠনটির জেলা, উপজেলা ও বিদেশি শাখায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ দেয়া হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। সংগঠনটির দাবি, দুই-তিন বছর ধরে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন হিসেবে অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করছে তারা। যদিও আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, সংগঠনটির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই।

 

চাকরিজীবী লীগ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে গত শনিবার আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটি থেকে বাদ দেয়া হয় হেলেনাকে। আর তাকে কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পদ থেকে আরও আগেই বাদ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা।

চাকরিজীবী লীগের বিষয়টি আলোচনায় আসার পর আওয়ামী লীগের নামের সঙ্গে মিল রেখে সংগঠন পরিচালনা করছে এমন অন্তত অর্ধশত সংগঠনের নাম আসে। এদের কেউ কেউ তাদের দলীয় প্যাডে ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করেছে ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, যেটি আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঠিকানা। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, খুব শিগগির এসব ভুঁইফোঁড় সংগঠনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে হেলেনা জাহাঙ্গীরের উত্থান হয়েছে অল্প সময়ের মধ্যে। অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বিয়ে হয়ে যায় তার। হেলেনার নামের সঙ্গে যুক্ত হয় জাহাঙ্গীর। স্বামীর সংসারে হেলেনা জাহাঙ্গীর পড়াশোনা অব্যাহত রাখেন; শেষ করেন স্নাতকোত্তর। এরপর শুরু করেন তার উদ্যোক্তা জীবন। তিনি একাধারে প্রিন্টিং, অ্যামব্রয়ডারি, প্যাকেজিং, স্টিকার এবং ওভেন গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার। জয়যাত্রা গ্রুপের আওতায় এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। সব মিলিয়ে ১২ হাজার কর্মী কাজ করছে এসব প্রতিষ্ঠানে।

হেলেনা জাহাঙ্গীর ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সদস্য ও নির্বাচিত পরিচালক। এ ছাড়া তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএরও সক্রিয় সদস্য তিনি। এফবিসিসিআইয়ের সদস্যপদ পাওয়ার এক মাসের মাথায় নির্বাচনে নেমে ও পরিচালক নির্বাচিত হয়ে আলোচনার জন্ম দেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। জয়যাত্রা নামে একটি স্যাটেলাইট টেলিভিশনেরও মালিক তিনি। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পুরস্কৃতও হয়েছেন রোটারি ক্লাবের একজন ডোনার হিসেবে।

ফেসবুকে ২ লাখের বেশি ফলোয়ার হেলেনা জাহাঙ্গীরের। রাজনৈতিক অঙ্গনে রয়েছে তার দাপুটে উত্থান ও পদচারণা। আওয়ামী রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার আগে তার জাতীয় পার্টিতে এবং তারও আগে বিএনপির রাজনীতিতে সংশ্লিষ্টতার খবর পাওয়া যায়। গণমাধ্যমে ওই দুটি দলের প্রধান খালেদা জিয়া ও হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের সঙ্গে ছবিও প্রকাশ পেয়েছে।

প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচন করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। তখন দাবি করতেন, তার কোনো রাজনৈতিক দল নেই। তিনি স্বতন্ত্র রাজনীতি করতে চান। যদিও পরে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

শুধু রাজনৈতিকভাবেই নয়, বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমুলক সংগঠনগুলোর সঙ্গেও হেলেনা জাহাঙ্গীরের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি প্রায় এক ডজন সামাজিক সংগঠনের নেতৃস্থানীয় দায়িত্বে রয়েছেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।