ঢাকাসোমবার , ২৯ নভেম্বর ২০২১
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. এক্সক্লুসিভ
  5. কৃষি ও প্রকৃতি
  6. খেলা
  7. গণমাধ্যম
  8. জবস
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. টপ নিউজ
  12. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  13. তথ্যপ্রযুক্তি
  14. ধর্ম
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কনসার্ট ফর বাংলাদেশ খ্যাত বিখ্যাত গায়ক জর্জ হ্যারিসন “

শমিত জামান, লেখক ও কলামিস্ট
নভেম্বর ২৯, ২০২১ ৬:২৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

সময়টা তখন ১৯৭১; যুদ্ধের বিভীষিকায় রক্তাক্ত বাংলাদেশ। প্রায় এক কোটি লোক ভারতে আশ্রয় নেয়। এত বিপুলসংখ্যক শরণার্থীদের ভরণ-পোষণ করতে গিয়ে ত্রাণ-সামগ্রীর অপ্রতুলতা দেখা দেয়। চুপ করে বসে থাকতে পারেননি বিশ্বখ্যাত সেতার বাদক পণ্ডিত রবি শঙ্কর। তিনি কথা বললেন জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে। রবি শঙ্কর তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হ্যারিসনকে যুক্তরাষ্ট্রে দাতব্য সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজনের কথা বললেন। হ্যারিসন অকুণ্ঠ চিত্তে বন্ধুর প্রস্তাব গ্রহণ করেন এবং তার বন্ধুদের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে যোগদানের আমন্ত্রণ জানান।

১৯৭১ সালের ১ আগস্ট নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হলো ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’। কনসার্টের শুরুতে বাংলাদেশের পল্লিগীতির সুরে ‘বাংলা ধুন’ নামে একটা পরিবেশনা করেন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের গুরু রবিশঙ্কর। তারপরই মঞ্চে ওঠেন জর্জ হ্যারিসন। ৪০ হাজার মানুষের সামনে জর্জ হ্যারিসন বাংলাদেশের জন্য গেয়েছিলেন কালজয়ী সেই গান। গানে গানে বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশকে চিনিয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশের শরণার্থীদের সাহায্যে, মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে এ ধরনের বড় অনুষ্ঠান ওটাই ছিল প্রথম।
আধুনিক সংগীতের ধারা থেকে আধুনিক ব্যান্ড মিউজিকের দিকে বিশ্ব যাদের হাত ধরে এগিয়েছিল তাদের একজনের নাম জর্জ হ্যারিসন। বিশ্বে সর্বকালের সেরা কয়েকটি ব্যান্ডের নাম করলে যেভাবে বিটলস চলে আসে সেভাবেই সেরা তারকাদের নামের মধ্যে উপরের দিকেই সন্ধান মিলবে এই প্রতিভাবান জনপ্রিয় গায়ক এবং গিটারিস্ট জর্জ হ্যারিসনের নাম।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের পক্ষে সাংস্কৃতিক তৎপরতা ও সামাজিক জনমত গঠনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার নাম। ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ নামের সেই অনুষ্ঠানে সংগৃহীত ২ লাখ পঞ্চাশ হাজার মার্কিন ডলার বাংলাদেশের উদ্বাস্তুদের জন্য দেওয়া হয়েছিল এবং বাংলাদেশের পক্ষে তৈরি করা হয়েছিল আন্তর্জাতিক সমর্থন।
ঐতিহাসিক সেই কনসার্টে জর্জ হ্যারিসন, রবি শংকর ছাড়াও গান পরিবেশন করেন বিশ্বখ্যাত গায়ক বব ডিলান, এরিক এবং আরও অনেকে। অনুষ্ঠানের শেষ পরিবেশনা ছিল জর্জ হ্যারিসনের সেই অবিস্মরণীয় গান ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’। গানটি লিখেছেন জর্জ হ্যারিসন এবং সুরও তাঁর। গানের মূল কথাই ছিল বিশ্বের মানুষের কাছে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান।
গানের কথায় এমন আবেদন ছিল যে ‘সকলের কাছে মিনতি জানাই আজ আমি তাই/ কয়েকটি প্রাণ এসো না বাঁচাই’ বা ‘এত যে বেদনা রাখি দূরে/ দেবে না তোমার ক্ষুধিতকে রুটি সামান্য দুটি/ মানুষগুলোকে সহায়তা দাও।’ জর্জ হ্যারিসন পুরো গানটা গেয়েছেন উচ্চ স্বরে করুণ বিলাপের সুরে গভীর মানবিক আবেদন নিয়ে। গানের সেই সুর আজও আমাদের উজ্জীবিত করে। ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এর পর দেশে দেশে মানবতার কল্যাণে কত বড় বড় কনসার্ট হয়েছে দুনিয়াভর। কিন্তু সেসবেরই পথিকৃৎ হয়ে আছে ৪৯ বছর আগের ওই আসর। কনসার্টের টিকেট, সিডি ও ডিভিডি হতে প্রাপ্ত অর্থ বাংলাদেশ যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য ইউনিসেফ ফান্ডে জমা করা হয়।
জর্জ হ্যারিসন ১৯৪৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
জর্জ হ্যারিসন ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। তবে তার বিচরণের ক্ষেত্রব্যাপ্ত ছিল সঙ্গীত পরিচালনা, রেকর্ড প্রযোজনা এবং চলচ্চিত্র প্রযোজনায়। বিখ্যাত ব্যান্ড সঙ্গীত দল ‘দ্য বিটলস’ এর চার সদস্যের একজন হিসেবেই তিনি বিখ্যাত হয়ে ওঠেন। মূলত, লীড গিটারিস্ট হলেও বিটলসের প্রতিটি এলবামেই হ্যারিসনের নিজের রচিত ও সুর দেওয়া দু’একটি একক গান থাকতো যা তার প্রতিভার পরিচায়ক।
১৯৬০ এর মাঝামাঝি সময় থেকে হ্যারিসন ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হন এবং আধ্যাত্মিক জগতের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তুলেন। ১৯৬৬ সালে তিনি তার স্ত্রী প্যাঁটিকে নিয়ে ভারত ভ্রমণে আসেন। তিনি নিরামিষ খাবার ও প্রাচ্য জীবনধারার প্রতি আকৃষ্ট হন।
১৯৯৭ সালে হ্যারিসনের গলায় ক্যান্সার ধরা পড়ে। তখন তাকে রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়। ২০০১ সালে তার ফুসফুস থেকে ক্যান্সার টিউমারটি অপসারণ করা হয়। আর ২০০১ সালে ২৯ নভেম্বর হ্যরিসন ৫৮ বছর বয়সে তিনি মারা যান।
হলিউড ফরএভার সিমেট্রিতে তাকে দাহ করা হয়। এরপর তার দেহভস্ম ভারতের কাশির নিকট গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী নদীর ত্রিবেণী সঙ্গমে ছড়িয়ে দেয়া হয়। ভারতে হিন্দুরীতিতে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
হ্যারিসনের শেষ এলবাম ব্রেণয়াশড (Brainwashed) ২০০২ সালে তার দুই সন্তান শেষ করেন। এলবামটিতে ভগবত গীতা থেকে একটি উক্তি ছিল, যাতে বলা হয়েছে, ‘There never was a time when you or I did not exist. Nor will there be any future when we shall cease to be.’ বাংলাদেশের সৃষ্টিলগ্নে মুক্তিযুদ্ধের এই অকৃত্রিম বন্ধুর প্রতি গভীর ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা জানাই।

 

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।